তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোল ফল

তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে সুন্দরবনের পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলগাছের ফল(গোল ফল)দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

গোলাম রব্বানী, কয়রা (খুলনা)

Location :

Khulna
তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোল ফল
তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোল ফল |নয়া দিগন্ত

তালের শাঁসের বিকল্প হিসেবে সুন্দরবনের পামজাতীয় উদ্ভিদ গোলগাছের ফল(গোল ফল)দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। গোলপাতা (Arecaceae গোত্রভুক্ত) একটি পামজাতীয় উদ্ভিদ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Nypa fruticans। এটি বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের স্বল্প ও মধ্যম লবণাক্ত এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই জন্মে।

সুন্দরবনের উপকূলীয় মানুষের কাছে পরিচিত এই ফল এখন গ্রাম পেরিয়ে শহরেও কদর পাচ্ছে। সুন্দরবনের উপকূলজুড়ে বিস্তৃতভাবে দেখা যায় গোলপাতা গাছ। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে জেলে ও বাওয়ালীরা সুন্দরবনের ভেতর থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে থাকেন। এসব পাতা সাধারণত ঘরের ছাউনি ও বেড়া নির্মাণে ব্যবহৃত হলেও, পাতা সংগ্রহের সময় শখের বশে লোকালয়ে আনা গোল ফল দ্রুতই উপকূলজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের হাত ধরে এ ফল শহরের মানুষের কাছেও পরিচিতি লাভ করে।

সুন্দরবনের পশ্চিম বনবিভাগের প্রায় সর্বত্রই গোলপাতা গাছের দেখা মেলে। খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকা ও উপকূলীয় চরাঞ্চলে এই গাছের বিস্তার চোখে পড়ার মতো। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীভাঙন, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে কয়রা উপজেলায় লবণাক্ততার মাত্রা আরও বেড়েছে। ফলে লবণাক্ততা সহনশীল নয় তালগাছের সংখ্যা কমলেও তুলনামূলকভাবে লবণসহিষ্ণু গোলপাতা গাছের আধিক্য বেড়েছে।

বর্তমানে বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় ও ঘেরের পাড়েও গোলপাতা গাছ দেখা যাচ্ছে। কয়রার আমাদি, মহেশ্বরীপুর,বাগালী, মহারাজপুর, কয়রা সদর, উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের শাকবাড়িয়া এলাকা এবং কপোতাক্ষ নদীর চরাঞ্চলে এই গাছের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।

গোলপাতা গাছের পাতার ভেতর থেকে মোচা আকারে ফুল বের হয়। সেই ফুল থেকেই তালের কাঁদির মতো দৃষ্টিনন্দন ফলের কাঁদি তৈরি হয়। প্রতিটি গাছে সাধারণত ৫ থেকে ৭টি বা তারও বেশি কাঁদি থাকে এবং প্রতিটি কাঁদিতে ৫০ থেকে ৮০টি পর্যন্ত ফল ধরে। শক্ত খোসা ছাড়িয়ে অপরিপক্ব অবস্থার নরম সাদা আঁটি খাওয়া হয়, যা স্বাদ ও ঘ্রাণে অনেকটা তালের শাঁসের মতো।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তালের শাঁসের চেয়েও গোল ফল বেশি পুষ্টিকর। তাদের বিশ্বাস, এটি শরীরের বিভিন্ন ব্যথা উপশমে সহায়ক, ডায়াবেটিস ও চর্মরোগে উপকার করে এবং মুখের অরুচি দূর করে। এছাড়া এই ফল খেলে শরীর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়।

এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘গোলপাতা গাছের ফল চর্মরোগে কিছুটা উপকার করতে পারে এবং মুখের অরুচি ভাব দূর করতে সহায়ক। তবে একসঙ্গে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।’