প্রবাসে অবস্থান করেও দেবিদ্বারে মিছিলে অংশগ্রহণ, পুলিশের মামলা

বিদেশে অবস্থান করেও দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনজন প্রবাসীকে আসামি করা হয়েছে।

Location :

Debidwar
দেবিদ্বার থানা
দেবিদ্বার থানা |সংগৃহীত

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি মিছিলের অভিযোগে পুলিশের দায়ের করা মামলায় সৌদি আরব ও কাতারে অবস্থানরত তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার (৩ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়। রোববার দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অপু বড়ুয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ওই মামলা করেন। মামলায় ২৩ জনকে এজাহার নামীয় এবং ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, শনিবার সকালে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ইউসুফপুর এলাকায় কুমিল্লামুখী লেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের ৩৫ থেকে ৪০ জনের সক্রিয় সদস্য বেআইনিভাবে ঝটিকা মিছিল বের করেন। মিছিলে তারা সরকারবিরোধী এবং বিভ্রান্তিমূলক বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা পালিয়ে যান। পরে ভিডিও দেখে এজাহারনামীয় ২৩ জন আসামির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই বিক্ষোভ মিছিলে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নিয়েছেন। এদিকে এ মামলায় তিন আসামি প্রবাসে অবস্থান করেও সরাসরি মিছিলে অংশ নেয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামলার ৬ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন কাতারে অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম ও ৯ নম্বর আসামি পৌর ছাত্রলীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শাওন আছেন সৌদি আরবে।

সাইদুলের ছোট ভাই মিজানুর রহমান জানান, তার ভাই গত বছরের ৩১ মে সৌদি আরব চলে গেছেন। তিনি দেশে এসে মিছিলে অংশ নেয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে তারা বিস্মিত।

কাতার থেকে ফেসবুক লাইভে ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, ‘যাচাই বাছাই ছাড়া মামলা দিতে গিয়ে বিদেশে থাকা আমিসহ তিন বন্ধুকে পুলিশ মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। পুলিশ মিছিলের যে ভিডিও সূত্র ধরে আসামি সনাক্তের কথা বলছে সেখানে আমরা তিন প্রবাসীসহ অধিকাংশ আসামিই উপস্থিত ছিলেন না।’

অপর আসামি শাওনের মা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘গত বছরের ১৫ জানুয়ারি আমার ছেলে সৌদি আরবে যান। এখন জানলাম তিনি মিছিল করায় তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’

এদিকে, পুলিশ জানায় এ ঘটনায় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু তাহের সরকারসহ তিনজনকে আটক করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার আদালতে সোপর্দ করা হয়। আবু তাহের মামলার ৮ নম্বর আসামি। তিনি উপজেলার সুবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তার পরিবারের অভিযোগ, গত শনিবার রাতে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের নিউ মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মিছিলের ভিডিওতে আবু তাহের না থাকলেও পরে তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

দেবিদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত মামলা নিতে হয়েছে। তাই আসামিদের কেউ বিদেশে আছেন কিনা তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বিষয়টি সুরাহা হবে।’