গাজীপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সত্যতা পাওয়া গেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো কর্মস্থলে না আসা, টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য আদায়, নষ্ট যন্ত্রপাতি, রোগীদের নিম্নমানের খাবার সরবরাহসহ একাধিক অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেও এসব অনিয়মের দায় স্বীকার করেছেন।
সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালে অভিযান চালান দুদক কর্মকর্তারা।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গাজীপুরের উপ-পরিচালক এনামুল হকের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। আগে থেকেই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে দুদকের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ছিল। তদন্তে দেখা যায়, হাসপাতালে কর্মরত অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী সময়মতো অফিসে আসেন না, যার ফলে রোগীরা সময়মতো সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এ ছাড়া সরকার-নির্ধারিত তিন টাকার টিকিটের পরিবর্তে রোগীদের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।
অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা দেখতে পায়, হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাম ও এক্স-রে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে অচল ও নষ্ট থাকায় রোগীরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছে। রোগীদের জন্য বরাদ্দ খাবার পরিমাণে কম দেয়া হচ্ছে এবং খাবারের মানও অত্যন্ত নিম্ন। হাসপাতালের রান্নাঘরসহ সার্বিক পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। হাসপাতালের স্টোরে রক্ষিত মালপত্রের হিসাবের সাথে বাস্তবের কোনো মিল পাওয়া যায়নি, যা বড় ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেজোওয়ানা রশিদ নিজের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি প্রতিটি দফতরের কাজ নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ভাগ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেননি। তাদের ব্যর্থতার কারণেই আজকে সবকিছুর দায়ভার আমাকে নিতে হচ্ছে।’
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গাজীপুরের উপ-পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করেছি। আমাদের তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা মিলেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিজেও এসব অনিয়মের দায় স্বীকার করেছেন। জনগণের অর্থ ও সরকারি সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে আমাদের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।’



