চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ছটেংগার বিস্তীর্ণ কৃষি অঞ্চলে পুকুর পুনঃখননের আড়ালে বালু ও কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি উত্তোলনের অভিযোগে অবশেষে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ায় ২৭ জুন প্রকাশিত সংবাদের চার দিন পর, বুধবার (১ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমীন এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলম দর্শনা থানা পুলিশের সমন্বয়ে ছটেংগার মাঠে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন।
এ সময় অভিযানে বিভিন্ন স্থানে চলমান পুকুর পুনঃখননের কার্যক্রম, মাটি উত্তোলন ও পরিবহনের বিষয়গুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, পুকুর পুনঃখননের অনুমতির আড়ালে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে গভীর খাদ, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং কৃষকদের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই মাটি-বাণিজ্য সিন্ডিকেট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘পুকুর খননের নামে কোথাও যেন কৃষিজমির উর্বর প্রথম স্তরের মাটি কেটে নেয়া না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত, তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’
সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন আলমও জানান, মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরো জোরদার করা হবে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে।
উল্লেখ্য, ২৭ জুন দৈনিক নয়া দিগন্ত মাল্টিমিডিয়ায় ছটেংগার মাঠে পুকুর পুনঃখননের নামে উর্বর মাটি ও বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে এবং গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম, দর্শনা ভূমি অফিসের ভূমি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের এই অভিযান নিয়মিত হলে কৃষিজমি রক্ষা, অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু অভিযান নয়, অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এই অনিয়ম বন্ধ করা হবে।



