যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বিএসফের ঠেলে পাঠানো ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু সীমান্তের শুন্যরেখায় আটকা পড়েছেন। এ বিষয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
মঙ্গলবার (২ জুন) যশোর-৪৯ বিজিবির পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় বিএসএফ-বিজিবির মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ নারী-পুরুষ ও শিশু দ্বিতীয় দিনের মতো আজও বেনাপোল সীমান্তের সাদিপুর মাঠের ভারত-বাংলাদেশের জিরো লাইনে অবস্থান করছে।
এর আগে, শনিবার গভীর রাতে কাঁটাতারের গেট খুলে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। ঘটনাটি জানতে পেরে বিজিবি তা প্রতিহত করে।
পরে, সোমবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকে অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকটি ট্রাকযোগে প্রায় ১২০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর জন্য সীমান্তে নিয়ে আসে। পরে ১০-১২ জন করে ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে পুশইনের প্রস্তুতি নেয়।
প্রথমে তারা যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল সাদিপুর-রঘুনাথপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের জয়ন্তীপুর সীমান্ত দিয়ে ওই লোকদেরকে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিজিবির বাধার মুখে তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে রাতভর আশপাশের বেশ কয়েকটি কাঁটাতারের গেট খুলে তাদেরকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
যে গেট দিয়ে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে তার আগে সেখানকার সীমান্তের সার্চলাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া বিএসএফ। এদিকে বিজিবির টহল দলের সদস্যরা সতর্ক থাকায় সেই সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পরে রাত ৩টার দিকে বিএসএফ ১০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে গেটের এপারে ঠেলে পাঠায়।
এরপর থেকে ওই ১০ জনকে শূন্য রেখায় ভারতের ভূখণ্ডে একটি গাছের নিচে অবস্থান করছে।
এ ঘটনার পর বেনাপোলসহ আশেপাশের সীমান্তে বিজিবি জনবল ও সতর্কতা বাড়িয়েছে বলে জানা যায়। একই সাথে জনসচেতনতা বাড়াতে বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তের গ্রামগুলোতে মাইকিং করা হয়।



