চলন্ত ট্রেনের দরজায় বসে পা ঝুলিয়ে যাত্রা করছিলেন এরশাদ মিয়া (৩০) নামে এক ব্যক্তি। টঙ্গী স্টেশন অতিক্রম করার পর লোহার সেতুর পিলারে ধাক্কা লেগে তার দুই পা নিচ থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। রেলপথে যাত্রী নিরাপত্তায় চরম অবহেলার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এরশাদ ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের উত্তর জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মরহুম খোরশেদ আলীর ছেলে। প্রথমে তাকে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যার পর ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এরশাদের স্বজন মো: রুমান মিয়া জানান, এরশাদ একটি রাইস মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি নিয়ে তিনি ঢাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে যান। শুক্রবার দুপুরে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসে করে গফরগাঁও স্টেশনে নেমে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তার।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠার সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ ও দরজা বন্ধ না থাকায় এরশাদ দরজার পাশে বসে পা ঝুলিয়ে যাত্রা করছিলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর লোহার সেতুর পিলারে ধাক্কা লেগে তার দুই পায়ের নিচের অংশ মুহূর্তেই কেটে যায়।
আহত এরশাদের পাশের কামরায় থাকা যাত্রী বিল্লাল হোসেন (নান্দাইলের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা) জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তিনি এরশাদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, ‘অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। অতিরিক্ত যাত্রী উঠলেও কেউ বাধা দেয়নি, দরজাও খোলা ছিল।’
ঘটনার পর রেলওয়ের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নিয়মিত ট্রেনে দরজা খোলা রেখে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং নিরাপত্তা তদারকির অভাবেই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।



