ইউরোপের বিভিন্ন জাদুঘরে চুরির ঘটনাগুলোতে দিন দিন সহিংসতার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
এইসব ঘটনার পেছনে মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের চলমান অবৈধ দখলদারিত্ব, সম্পদ লুণ্ঠন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের চরম ও ঘৃণ্য মানসিকতার পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব ও বৈশ্বিক অস্থিরতা অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করছে।
একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধী চক্রের মাধ্যমে এসব অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে সোমবার (২৪ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সংস্থা ইউরোপোল। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু এ তথ্য জানায়।
ইউরোপোল জানায়, জাদুঘরের চুরিকে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতাহীন সংগঠিত অপরাধ হিসেবে দেখা হলেও সম্প্রতি এর কৌশল ও লক্ষ্যবস্তুতে সুস্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে। চোরেরা এখন কেবল সাংস্কৃতিক নিদর্শনই নয়, বরং সোনা-রুপা ও মহামূল্যবান রত্নপাথরের দিকে চোখ রাখছে। নিরাপত্তাকর্মীদের ভয় দেখাতে এবং ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাঙতে তারা হাতুড়ি, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্রের মতো মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপের পেছনে কেবল অপরাধী চক্রই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের চলমান অবৈধ দখলদারিত্ব, সম্পদ লুণ্ঠন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংসের চরম ও ঘৃণ্য মানসিকতার পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব ও বৈশ্বিক অস্থিরতা কাজ করছে। ইউরোপোল সতর্ক করে বলেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সংসংগঠিত হওয়া নতুন অপরাধী চক্রও এখন এই ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু লাভজনক অপরাধে যুক্ত হচ্ছে।
সংস্থাটির মতে, সোনা ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতু সহজে গলিয়ে ফেলে আলামত মুছে ফেলা যায় বলেই অপরাধীদের কাছে এর আকর্ষণ বেশি। পাশাপাশি রত্নখচিত অলংকার ভেঙে আলাদা করে বিক্রি করাও সহজ। অলংকারের দোকানগুলোর তুলনায় জাদুঘরের নিরাপত্তা কিছুটা দুর্বল—এমন ধারণার কারণেই এসব স্থানকে সহজ লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। অতীতে একজন নেতার অধীনে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক সম্পদ পাচারে জড়িত থাকলেও, এখন বিভিন্ন অপরাধমূলক খাত থেকে আসা সুযোগ সন্ধানীরাও কম ঝুঁকিতে বেশি লাভের আশায় এখানে জড়াচ্ছে।



