সাংবাদিক দেবাশীষ দম্পতির পরিবারের চার সদস্যের সৎকার ও দাফন সম্পন্ন

মৃত্যুর ৯১ ঘণ্টা পর শনিবার রাতে তাদের লাশ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

Location :

Kushtia

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চার সদস্যের সৎকার ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। মৃত্যুর ৯১ ঘণ্টা পর শনিবার রাতে তাদের লাশ কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর পর পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী সাংবাদিক ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশুপুত্র শর্ণশীষ দত্তের লাশ কুষ্টিয়া কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানে সৎকার করা হয়। অন্যদিকে দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমিন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের জানাজা কুষ্টিয়ার কুঠিপাড়ায় অবস্থিত উপজেলা মডেল মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজায় শত শত মানুষ অংশ নেন।

এর আগে শনিবার রাতে চারজনের লাশ আরুয়াপাড়া বাহাদুর আলী বিশ্বাস সড়কের নিজ বাসায় পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একসাথে পরিবারের চার সদস্যের নিথর দেহ দেখে স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র কন্যা পাখি বাবা-মা, ছোট ভাই ও নানুর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। কয়েক দিন ধরে বাবা-মায়ের ফেরার অপেক্ষায় থাকা শিশুটি জানত, তারা তার জন্য খেলনা, চকলেট ও জামাকাপড় নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু তারা ফিরেছেন নিথর দেহে। লাশগুলোর অবস্থা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে স্বজনদের অনেকেই শেষবারের মতো মুখও দেখতে পারেননি।

নিহতদের শেষ বিদায়ে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে এবং শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। সহকর্মী সাংবাদিকদের চোখেমুখেও ছিল শোকের ছাপ। শনিবার সকালে একদল সাংবাদিক যশোরের বেনাপোল সীমান্তে সহকর্মীর লাশ গ্রহণ করতে যান।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ নিহতদের পরিবারের হাতে সৎকার ও দাফনের জন্য জনপ্রতি ২৫ হাজার টাকা করে তুলে দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দেবাশীষ দত্ত তার স্ত্রী শাম্মী ও শিশুকন্যা শর্ণশীষকে নিয়ে গত ৩ আগস্ট ভারতের বেঙ্গালুরুতে যান। সেখানে নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার বিমানযোগে কলকাতায় পৌঁছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই হোটেলে ওঠেন তারা। পরদিন ১৯ আগস্ট তাদের কুষ্টিয়ায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ আগস্ট রাতে হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তারা নিহত হন।

নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত দৈনিক আজকের কাগজ ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

নিহতদের সাথে থাকা দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন কুষ্টিয়া ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কর্মচারী ছিলেন। ২০২০ সালে তিনি অবসর নেন। ৫ আগস্ট ছোট জামাই ফিরোজের চিকিৎসার জন্য তিনি বেঙ্গালুরু যান। ১৬ আগস্ট তিনি মেয়ে-জামাই দেবাশীষের কাছে থেকে যান এবং ছোট জামাই ফিরোজ বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

পারিবারিক সূত্রে আরো জানা যায়, প্রায় নয় বছর আগে পরিবারের মতের বাইরে দেবাশীষ ও শাম্মীর বিয়ে হয়। এ নিয়ে শাম্মীর বাবা আকরাম হোসেন মেয়েকে ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। তবে শাম্মী দেবাশীষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আদালতের মাধ্যমে তাকে ফেরাতে পারেননি। এরপর থেকে তারা নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিনীতি মেনে সংসার করছিলেন।