বান্দরবানে পাঁচ ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে পরিবেশ আদালত। এসব ইটভাটাগুলো পরিবেশ ধ্বংস করে পাহাড় ও বনাঞ্চল উজাড় করে অবৈধভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার (১ মার্চ) বান্দরবানের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিবেশ আদালতের বিশেষ বিচারক মো: আনোয়ার হোসেন এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারি (পেশকার) মো: মাহবুব কাদের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
পরোয়ানাভুক্ত ইটভাটার মালিকরা হলেন— থানচি উপজেলার এমএসবি ভাটার মালিক আনিসুর রহমান সুজন, আলীকদম উপজেলার এবিএম ইটভাটার মালিক সামছুদ্দিন ও এখলাছুর রহমান, ইউবিএম ইটভাটার মালিক জামাল উদ্দিন, এফবিএম ইটভাটার মালিক শওকত তালুকদার ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিবিএম ইটভাটার মালিক মোহাম্মদ আবু ছৈয়দ, আবুল বশর ও ফরিদ আহমদ।
বান্দরবান পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম জানান, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ ইটভাটা থেকে ৮০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং আটটি ভাটার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আটজনের মধ্যে পাঁচজন মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
আদালত ও পরিবেশ অধিদফতরের সূত্র মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলায় পরিবেশ আইন অমান্য করে এবং প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই ৭০টি ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৪২টি ইটভাটা সচল রয়েছে। এর আগেও কয়েকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু ইটভাটাকে অর্থদণ্ড প্রদান এবং বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হলেও সেগুলো বন্ধ করা যায়নি।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শামীম আরা রিনি জানান, অবৈধ ইট ভাটাগুলোর বিরুদ্ধে পরিবেশ আদালত ইতোমধ্যে বেশ কয়েকদফা অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযানের পরেও ইটভাটার মালিকরা নানাভাবে পরিবেশ ধ্বংস করে ইটভাটাগুলো পরিচালনা করে আসছিল। এরকম আটটি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।



