কমলগঞ্জে রেল টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রেলওয়ের টিকিট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও টাকা নেয়ার পর টিকিট না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কায়েস মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

Location :

Maulvibazar
কমলগঞ্জে রেল টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ
কমলগঞ্জে রেল টিকিট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রেলওয়ের টিকিট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও টাকা নেয়ার পর টিকিট না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কায়েস মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার কুমড়াকাপন গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে।

অভিযোগ রয়েছে, কায়েস মিয়ার বাবা মাসুক মিয়া দীর্ঘদিন সিনিয়র স্টেশন মাস্টার ছিলেন। সেই সুবাদে সবার সাথে পরিচিত থাকায় একটি চক্রের মাধ্যমে সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে রেল টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আসছেন। স্থানীয়রা স্টেশন মাস্টারের ছেলে বলে বিশ্বাস করত। স্টেশনে টিকিট না পেয়ে যাত্রীরা বিপাকে পড়লে তাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রতি টিকিটিতে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়ার প্রস্তাব দেয়া হতো বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, টিকিটের আশ্বাস পেয়ে অনেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠান। এমন একটি অডিও রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। টাকা পাঠানোর পর কয়েক দিন অপেক্ষা করেও তারা টিকিট পাননি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এমনই একটি অভিযোগ করেছেন মো: হোসেন বক্ত নামে এক ব্যক্তি। তার দাবি, শ্রীমঙ্গল থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গল যাতায়াতের জন্য পাঁচটি টিকিট দেয়ার কথা বলে গত ৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিকাশের মাধ্যমে ৩ হাজার ৪০০ টাকা নেয়া হয়। তবে টাকা নেয়ার পরও এখন পর্যন্ত কোনো টিকিট দেয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী আরো দাবি করেন, টিকিটের বিষয়ে কথা বলতে কায়েস মিয়ার বাড়িতে লোক পাঠানো হলে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কায়েস মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বর্তমান স্টেশন মাস্টার পলাশ দাশের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তার বাবা স্টেশন মাস্টার ছিলেন এবং আমার সহকর্মী। কায়েস আগে আসা-যাওয়া করত ও টিকিট বিক্রি করত—এটাই জানি। এখন কী কারণে সপ্তাহ ধরে আসে না, তা আমার জানা নেই।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার এসআই রনি তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কায়েস মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় আরো মৌখিক অভিযোগ রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রেল টিকিটকে কেন্দ্র করে এ ধরনের দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।