ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির ইজারা প্রক্রিয়া

চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা, আরো ১২জনকে বদলি

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাই ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার সরকারি প্রক্রিয়াকে ঘিরে শ্রমিকদলের ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

মো: নূরুল কবির, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

Location :

Anwara
চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা, আরো ১২জনকে বদলি
চট্টগ্রাম বন্দরে দ্বিতীয় দিনের মতো অচলাবস্থা, আরো ১২জনকে বদলি |নয়া দিগন্ত

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাই ভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেয়ার সরকারি প্রক্রিয়াকে ঘিরে শ্রমিকদলের ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনেও চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কর্মবিরতির কারণে বন্দরের বিভিন্ন টার্মিনালের জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার লোডিং-আনলোডিং এবং বন্দর ইয়ার্ড থেকে পণ্য ডেলিভারি কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে আরো ১২ কর্মচারীকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি এবং পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ বন্দর এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

এদিকে রোববার সকাল ৮টার দিকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বন্দরের জিসিবি টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য লোডিং-আনলোডিং কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত পরিসরে অপারেশনাল কার্যক্রম চলে। তবে বর্হিনোঙ্গরে পণ্য খালাস স্বাভাবিক ছিল।

গত ২৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে এ সংক্রান্ত রিট খারিজ হওয়ায় সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেয়ার পথ খুলে। একই দিন বিএনপির শ্রমিক সংগঠন এনসিটি ইজারা দেয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করে। গত শনিবার এবং গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির ডাক দেয়া হলে সকাল থেকেই বন্দরের কর্মচারী ও বন্দরে নিয়োজিত বেসরকারি শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়।

একইভাবে আজ সোমবার ৮ ঘণ্টা প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রম স্থগিত রাখার কর্মসূচি দেয়া হয়।

বন্দর সূত্র জানিয়েছে, সকালে কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটির অপারেশনাল কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এর মধ্যে জিসিবি এবং সিসিটিতে কার্যত অপারেশনাল কর্মকান্ড বন্ধ ছিল।

এনসিটিতে বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে লোডিংয়ের কার্যক্রম চলছে।

এদিকে বন্দরে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে প্রশাসনিক এ্যাকশন চলছে। রোববার নতুন করে এক আদেশে ৭ জন এবং অপর এক আদেশে আরো পাঁচজনসহ মোট ১২জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।

এরা হলেন- পরিবহন বিভাগের উচ্চ বর্হিসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলামকে পানগাঁও আইসিটিতে, পরিকল্পনা বিভাগের স্টেনো টাইপিস্ট মো: জহিরুল ইসলামকে কমলাপুর আইসিডিতে, বিদ্যুৎ বিভাগের এস এস পেইন্টার মো: হুমায়ুন কবিরকে কমলাপুর আইসিডিতে, প্রশাসন বিভাগের উচ্চমান সহকারী মো: শাকিল রায়হানকে পানগাঁও আইসিটিতে, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার মানিক মঝিকে কমলাপুর আইসিডিতে এবং প্রকৌশল বিভাগের মেসন মো: শামসু মিয়াকে কমলাপুর আইসিডিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক আদেশে পরিবহন বিভাগের উচ্চ বহি:সহকারী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এমপিডিপির স্টেনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, যান্ত্রিক বিভাগের ইসিএম ড্রাইভার লিয়াকত আলী ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং যান্ত্রিক বিভাগের খালাসী মো: রব্বানীকে পানগাঁও আইসিটিতে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদেরকে রোববার দুপুরের পরই চট্টগ্রাম বন্দর থেকে অবমুক্ত করা হয় এবং সোমবার দুপুরের আগেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত শনিবার এক আদেশে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো: হুমায়ুন কবির, নৌবিভাগের ইঞ্জিন ড্রাইভার (১ম শ্রেনী) মো: ইব্রাহীম খোকন, অর্থ ও হিসাব বিভাগের উচ্চ হিসাব সহকারী (ব্যয় মূলধন শাখা) মো: আনোয়ারুল আজিম এবং প্রকৌশল বিভাগের এস এস খালাসী মো: ফরিদুর রহমানকে ঢাকার পানগাঁও আইসিটিতে বদলি করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মচারী ও শ্রমিকেরা কর্মসূচি পালন করছেন।

শ্রমিকদলের ডাকা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরে দিনভর অচলাবস্থার পর মধ্যরাতে মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নগর পুলিশ। তবে সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজের সই করা এ গণবিজ্ঞপ্তির কথা জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্দর এলাকায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, পথসভা করলে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক রাখাসহ জনশৃঙ্খলা, শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেইট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকায় অস্ত্রসস্ত্র, তলোয়ার, বর্শা, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য, ইট-পাথর বহন ও ব্যবহার এবং যে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও পথসভা ১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট হতে ২ মার্চ পর্যন্ত ১ মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।