তোলা হয়েছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস, ১৩ লাশ উদ্ধার

বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মায় পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি। এ বাসে যাত্রী ছিল ৪৫ থেকে ৫০ জনের মতো।

উদ্ধারকৃত বাস
উদ্ধারকৃত বাস |নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরী থেকে পড়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি রাত ১২টার দিকে টেনে তোলা হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটি টেনে তোলা হয়।

বুধবার দিবাগত রাত ১টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাসটি থেকে ১৩টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে পুরুষ চারজন, নারী ছয়জন ও শিশু তিনজন (ছেলে-২, মেয়ে-১)।

এর অগে, বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মায় পড়ে যায় সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি। এ বাসে যাত্রী ছিল ৪৫ থেকে ৫০ জনের মতো। এর মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে উপরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন।

এদিকে, লাশের অপেক্ষায় পদ্মাপাড়ে ভিড় করেছেন স্বজনরা। তাদের কান্নায়-আহাজারিতে ভারী হয়ে এসেছে পদ্মাপাড়ের আকাশ-বাতাস।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের দুজন ডুবুরি, দুজন সহকারী ডুবুরি উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে।

সৌহার্দ্য বাসে থাকা আবদুল আজিজুল নামে এক যাত্রী জানান, তিনি রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার গান্ধীমারা এলাকা থেকে এই বাসটিতে উঠেছিলেন। নদীতে পড়ে যাওয়ার পর তিনি সাঁতরে উপরে ‍উঠতে পারলেও তার স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে কে আহ্বায়ক ও গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাসকে সদস্য সচিব করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স উপসহকারী পরিচালক।

তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।