ভূমধ্যসাগরে মারা গেছে দিরাইয়ের আরো ২ যুবক

বোটে খাবার ও পানির সঙ্কটে তারা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপায়ান্তুর না পেয়ে বাঁচার তাগিদে শেষ দিকে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান করায় সবাই অসুস্থ হলে অনেকেই মারা যান।

ইমরান হোসাইন, দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ)

Location :

Sunamganj
ভূমধ্যসাগরে নিহত দিরাইয়ের দুই যুবক
ভূমধ্যসাগরে নিহত দিরাইয়ের দুই যুবক |নয়া দিগন্ত

লিবিয়া থেকে রাবারের বোটে (নৌকা) করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আরো দু’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী আগের দিনের চারজনসহ মোট ছয়জনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত দু’জন হলেন— জগদল ইউনিয়নের রাজনগর (হালেয়া) গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহ (২২) ও করিমপুর ইউনিয়নের মাটিয়াপুর গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে তায়েফ মিয়া (২৫)।

এর আগে, গতকাল শনিবার (২৮ মার্চ) তারাপাশা গ্রামের তিনজন ও চরনারচর গ্রামের একজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তাদের পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করেছেন।

ওই চারজন হলেন— দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে মো: নুরুজ্জামান সরদার ওরফে ময়না (৩০), আবদুল গণির ছেলে সাজিদুর রহমান (২৮), ইসলাম উদ্দিনের ছেলে সাহান এহিয়া (২৫) ও একই উপজেলার রাজানগর ইউনিয়নের রনারচেট আবদুল মালেকের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৮)।

রোববার বিকেল ৩টার দিকে সরেজমিনে তারাপাশা গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারা যাওয়া যুবকদের সাথে থেকে ভাগ্যক্রমে জীবিত থাকা তারাপাশা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাহারের ছেলে রোহান আহমদের (২৫) বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রিসের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে বাবা আব্দুল কাহারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলছিল সে।

তখন রোহান জানায়, বোটে খাবার ও পানির সঙ্কটে তারা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপায়ান্তুর না পেয়ে বাঁচার তাগিদে শেষ দিকে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান করায় সবাই অসুস্থ হলে অনেকেই মারা যান। তাদের গ্রামের তিনজনসহ মোট ছয়জন মারা যাওয়ার বিষয়টিও রোহান আহমেদ নিশ্চিত করে।

রোহান আরো জানায়, তার কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না। ভালো ভালো খাবার দেয়া হয়েছে কিন্তু লবণ পানি পান করায় গলায় ঘাঁ হয়েছে। কোনো খাবারই খেতে পারছে না।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহনূর মিয়া বলেন, রোহান আহমেদ ফোনে গ্রামের যুবকদের মৃত্যুর খবরটি জানিয়েছে। রাবারের বোটে (নৌকা) করে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে নেয়া হয়। এ ধরনের বোটকে লোকজন গেম বলে। গেমেই তারা মারা গেছেন।

সাহান মিয়ার বড় ভাই মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, প্রত্যেকেই ১২ লাখ টাকায় গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালের সাথে চুক্তি করেছিল। গত মাসে তারা বাড়ি থেকে রওনা দেয়। লিবিয়া যাওয়ার পর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের কোনো খোঁজখবর ছিল না। শনিবার বিকেলে চাচাতো ভাই রোহান ফোনে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানিয়েছে।

এদিকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার সময় মারা যাওয়া শোকাহত পরিবারের সাথে দেখা করেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজিব সরকার, দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরী বলেন, ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ছয়জনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।