পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যা, পুত্রবধূ গ্রেফতার

মধ্যসমত এলাকার একটি বসতঘর থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ আটকানো ফেরদৌসীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

Location :

Habiganj
গ্রেফতার তামান্না আক্তার
গ্রেফতার তামান্না আক্তার |নয়া দিগন্ত

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে পুত্রবধূর পরকীয়ার জেরে শাশুড়ি ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পুত্রবধূ তামান্না আক্তারকে (২২) গ্রেফতার করে যৌথবাহিনী।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত এলাকায় র‌্যাব–৯ ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে মধ্যসমত এলাকার একটি বসতঘর থেকে হাত-পা বাঁধা ও মুখে স্কচটেপ আটকানো ফেরদৌসীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

‎র‌্যাব–৯ মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘শাশুড়ি ও তামান্নার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। বিয়ের সময় তামান্নার জন্য দেয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণ শাশুড়ির কাছে থাকায় পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে।’

‎তামান্না টিকটক পরিচয়ের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শিপন মিয়া নামের যুবকের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে। শিপনের প্রভাব এবং স্বর্ণালংকারকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে তামান্না শাশুড়িকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শিপনসহ আরো কয়েকজনকে যুক্ত করা হয়।

‎র‌্যাব জানায়, রোববার রাত ১১টার দিকে শিপন ও সহযোগীরা ঘরের পেছন দিক দিয়ে প্রবেশ করে। তামান্না নিজেই দরজা খুলে দেন। তারা ঘুমন্ত ফেরদৌসীর মুখ চেপে ধরলে চিৎকার করলে হাত-পা বাঁধে ও মুখে স্কচটেপ লাগায়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও টাকা লুট করা হয়।

‎পরদিন ভোরে নিহতের ভাই খবর দিলে নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

র‌্যাব–৯ ও পুলিশের যৌথ তদন্তের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে তামান্নাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান এখনো চলমান।