দৌলতদিয়ায় ফেরি থেকে পদ্মায় ঝাঁপ দেয়া নারী ফরিদপুরে উদ্ধার

পদ্মা নদীতে ফেরি থেকে ঝাঁপ দেওয়া নারীকে চার ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী

Location :

Rajbari
লাইজু আক্তার
লাইজু আক্তার |নয়া দিগন্ত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে চলাচলকারী কুমিল্লা ফেরি থেকে মাঝ পদ্মা নদীতে ঝাঁপ দেয়া নারী লাইজু আক্তারকে (৩৯) চার ঘণ্টা পর ফরিদপুরের কবিরপুর চরে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রোববার সকালে ফরিদপুর সদর নৌ-ফাঁড়ির পুলিশ তাকে তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে তাকে হস্তান্তর করেছে।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ীর পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরের কবিরপুর চরের কিনারা থেকে জেলেরা তাকে উদ্ধার করে। এর আগে, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহন নিয়ে ছেড়ে আসা দৌলতদিয়াগামী ফেরি কুমিল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

লাইজু আক্তার ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীরচর এলাকার আশ্রাফাবাদের বাসিন্দা মো: ফোরকান মিয়ার স্ত্রী বলে জানা গেছে।

দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা বলেন, নিখোঁজের সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমরা নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার কবিরপুর চর থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন আমাদের জানালে আমরা নিশ্চিত হই। উদ্ধারের পর রাতে তিনি স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে সুস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং সেখানে ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

ইউপি সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, পদ্মা নদীতে থাকা কচুরিপানার সাথে ভাসতে ভাসতে কবিরপুর চরে আটকে পড়েন ওই নারী। এ সময় স্থানীয়রা দেখে আমাকে খবর দিলে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকমানের বাড়িতে হেফাজতে রাখি। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন। আমরা তার বিষয়টি দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ, ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি পুলিশকে জানিয়েছিলাম।

ফেরি কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত মাস্টার আব্দুস ছাত্তার বলেন, পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট থেকে তাদের ফেরিটি দৌলতদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝ নদীতে দৌলতদিয়ার লাল বয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের কাছ থেকে জানতে পারি যে এক নারী ফেরির পেছন দিক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন। সাথে সাথে আমরা ফেরিটি থামিয়ে ও ঘুরিয়ে ওই এলাকায় আলো ফেলে খোঁজাখুঁজি শুরু করি এবং সংশ্লিষ্টদের খবর জানাই।