ভূরুঙ্গামারীতে পর্ণগ্রাফি পরিচালনা, গ্রেফতার ৩

নিষিদ্ধ পর্ণগ্রাফি ও অসামাজিক কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালাতে কামরুল নিজেকে ‘মতপ্রকাশ’ নামের নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক দাবি করতেন।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Kurigram
গ্রেফতাররা
গ্রেফতাররা |নয়া দিগন্ত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পর্ণগ্রাফি ও অসামাজিক কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার (৫ জুলাই) রাতে তাদেরকে গোপালপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন কামরুল হাসান (৩৫), তার প্রথম স্ত্রী মুক্তা খাতুন (৩০) ও দ্বিতীয় স্ত্রী হাফিজা খাতুন (২৫)। তারা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা।

কামরুল ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। নিষিদ্ধ পর্ণগ্রাফি ও অসামাজিক কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালাতে কামরুল নিজেকে ‘মতপ্রকাশ’ নামের নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক দাবি করতেন।

পুলিশ জানায়, কামরুলের স্ত্রী থাকার পরেও সে প্রতিবেশীর এক সন্তানের জননী হাফিজা খাতুনের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রায় এক বছর আগে পালিয়ে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা নিয়মিত পর্ণভিডিও তৈরি করে বিভিন্ন পর্ণসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে অর্থ উপার্জন শুরু করে।

এছাড়াও সামাজিক মাধ্যমে পরিচিত হওয়া পুরুষদের বাসায় এনে স্ত্রীর সাথে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত করে পর্ণভিডিও তৈরি করা, যুবতী ও তরুণীদের বাড়িতে এনে তাদেরকে দিয়ে দেহ ব্যবসা চালানো এবং খদ্দেরদের ক্ষেত্র বিশেষে জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায় করার অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি তারা বহুতল ভবন নির্মাণ করা শুরু করলে অর্থের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তাদের দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। এরপরই পর্ণ ভিডিও ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিষয়টি জানাজানি হয়। গত রোববার পুলিশ কামরুল হাসান ও তার প্রথম স্ত্রী মুক্তা খাতুন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী হাফিজা খাতুনকে আটক করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কামরুল ও তার স্ত্রীরা নিষিদ্ধ পর্ণভিডিও তৈরি ও অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত। সামাজিক অবক্ষয় রোধে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতানির মামুন মুন বলেন, ‘পর্ণভিডিও তৈরি ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।’