নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি ও ফতুল্লা সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলা প্রত্যাহার না করায় বৃদ্ধ বাবাকে কুপিয়ে হত্যায় ব্যর্থ হয়ে গুলি ছুড়ে পালিয়েছে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফতুল্লার মাসদাইর কাজীবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত ওমর খৈয়ামকে (৭০) আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহরের খানপুর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি মাদক মামলায় নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দেড় ঘণ্টা পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টায় মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করে কিলার জাহিদ ও তার বাহিনীর লোকজন।
এ ঘটনায় ইমনের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে জাহিদ ও তার বাহিনীর ফেরদৌস (২৮), ভুট্টা মাসুদ (৩০), গিট্টু রিপন (৩৫), রনি (৩২), আদর (২৪), আপন (২২), জসীম (৩৫), সেলিম (৩৫), পারভেজ (৩২), চক্ষু হৃদয় (২৫), সাবু (৩০), হোটেল মাসুদ (৩৫), হৃদয় (২৯), ফাইটার মনির (৩০), শাওন (৩২), রবিন (২৮), গলাকাটা হৃদয় (২৯), রিয়াজ (২৬), নূরা (৪০) সহ অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
ইমনের পরিবারের দাবি, এ মামলা দায়েরের পর থেকে জাহিদ প্রায় সময় ফোন করে ও নানাভাবে লোকজনের মাধ্যমে জানাতেন দ্রুত মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য। তার হুমকিতে মামলা প্রত্যাহার না করায় কিলার জাহিদ বোরকা পরে এবং তার বাহিনীর ৭/৮ জন মুখে মাস্ক পরে বাসায় আসে।
এরপর জাহিদ বলেন, ‘কথা কানে যায়নি?’ বলেই বৃদ্ধ বাবাকে কুপাতে থাকে। এ সময় পরিবারের লোকজনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা গুলি ছুড়তে ছুড়তে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
এলাকাবাসী জানান, জাহিদ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে সে ‘কিলার জাহিদ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি মাদক স্পটে অভিযান চালানোয় র্যাবের ৩ জন সদস্যকে কুপিয়ে আহত করে সে।
এর আগে র্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়েছিল জাহিদ। সেই গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে এক নারীর শরীরে বিদ্ধ হয়। এছাড়া মাদক কারবারির অভিযোগে এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করায় পুলিশের এক এসআইকে ছুরিকাঘাত করে আসামিকে ছিনিয়ে নেয় জাহিদ ও তার লোকজন।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, জাহিদকে গ্রেফতারের জন্য দীর্ঘদিন যাবত চেষ্টা চলছে। সে বোরকা পরে কৌশলে চলাফেরা করে। এজন্য তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।



