ফরিদপুরের সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের পিএমপি প্রকল্পের অধীনে নগরকান্দা-ভাঙ্গা সড়কের সুলনা নদীর উপরে সুতারকান্দা নামক স্থানে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্মিত সেতুটির কাজের অনুমতি পায় মেসার্স সাইদুর রহমান অ্যান্ড ডন এন্টারপ্রাইজ-সাইদুর রহমান (জেবি)। ব্রিজের সংযোগ সড়কের মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই পিচ ঢালাই ও কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।
সংযোগ সড়কের মাঝে বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং সামনে একটি বাঁক থাকায় বাঁকের সামনে পিছনে দেখা না যাওয়ায় প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, খুঁটিটি দ্রুত না সরালে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি, এ কাজটি তার নয় এটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ ও পল্লী বিদ্যুতের কাজ। তাই তাদের অনুমতি না পাওয়ায় সড়কের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই কাজ করেছে। তাছাড়া তাদের কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সড়কের মাঝে খুঁটি রেখেই তারা কার্পেটিং করতে বাধ্য হয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মজিবর খান বলেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করা হয়েছে, সংযোগ সড়কে ঢাল সলপিং ঢাল না দিয়ে খাড়া ঢাল দেয়া হয়েছে, ঢালে ব্লগের পরিবর্তে সিমেন্ট বালুর প্রলেব দেয়া হয়েছে, সেতুর কার্নিশের চেয়ে রাস্তা ছোট করা হয়েছে, ফলে সেতুটি বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সেতুর স্থায়িত্বের ও যানবাহন চলাচলের জন্য বিপদজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।’
এ সমস্যাগুলো নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন যে, সেতুটি নির্মাণের সময় যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি, যা যানবাহন চলাচলের জন্য বিপজ্জনক।
স্থানীয় মাঝিকান্দা গ্রামের অটো চালক শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে এ সেতুর ওপর দিয়ে অটো চালিয়ে নগরকান্দা-ভাঙ্গা সড়কে চলাচল করি। সুতারকান্দা সড়টি অনেক উঁচু এর ঢালে উঠতে এবং নামতে অটো নিয়ে অনেক কষ্ট হয়। তাছাড়া সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায়ও থাকি।’
সড়কের নির্মাণকাজ তদারকের দায়িত্বে নিয়োজিত সড়ক ও জনপথ(সওজ) উপ-সহকারী প্রকৌশলী এস এম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য এক লাখ ২৩ হাজার টাকা চেয়ে হেড অফিসে আবেদন করা হয়েছে, অনুমোদন পেলেই আমরা পল্লী বিদ্যুৎকে দিতে পারব।’
সুতারকান্দা সেতুর সংযোগ সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর ব্যাপারে নগরকান্দা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ সোহেল রানা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বৈদ্যুতিক খুঁটি সারানোর জন্য এখনো টাকা পাইনি, টাকা পেলেই দ্রুত খুটি সরানো হবে।’



