বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘রমজান মাস ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। এ মাসে সাধারণ মানুষ ও রোজাদারদের কষ্ট দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অসাধু উপায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে বাজার অস্থির করার চেষ্টা করা হলে তা হবে চরম অমানবিক কাজ।’
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বাজার পরিদর্শন ও মনিটরিং শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বিকেলে উল্লাপাড়ার পৌর বাজারে গিয়ে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা ও খেজুরসহ রমজানকেন্দ্রিক অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ ও মূল্য পরিস্থিতি সরেজমিনে খোঁজ নেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী, আড়তদার ও দোকান মালিকদের সাথে কথা বলেন এবং কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সাধারণ মানুষ যেন স্বস্তিতে রোজা রাখতে পারেন। ব্যবসায়ীদের মনে রাখা উচিত অতিরিক্ত মুনাফার চেয়ে মানুষের সেবা বড়। বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর মানসিকতা পরিহার করতে হবে।‘
তিনি আরো বলেন, ‘রমজানকে সামনে রেখে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় পণ্য মজুদ করে বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেন। এ ধরনের অপচেষ্টা রুখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করা প্রয়োজন। কেউ যাতে অবৈধভাবে পণ্য মজুদ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।’
মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সাধারণ ক্রেতাদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য ক্রয় করলে বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি হয়। তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কিনে সবাইকে সংযমী আচরণ করতে হবে।’
বাজার পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, মজুদের স্বচ্ছতা ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের বিষয়েও খোঁজখবর নেন। কয়েকটি স্থানে মূল্যতালিকা যথাযথভাবে টানানো না থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন এবং দ্রুত নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেন।
মতবিনিময় শেষে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কোনো অনিয়ম চোখে পড়লে প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।’ একইসাথে অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহজাহান আলী, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো: খাইরুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির আব্দুস সামাদ, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আলাউদ্দিন আল আজাদ, উপজেলা দফদর সম্পাদক আ: বারী, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি আতাউর রহমানসহ জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।



