সিরাজদিখানে ফসলি জমি কাটার অভিযোগ, রাতের আধারে সক্রিয় চক্র

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর মৌজায় রাতের আধারে ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আব্দুস সালাম, মুন্সীগঞ্জ

Location :

Munshiganj
সিরাজদিখানে ফসলি জমি কাটার অভিযোগ, রাতের আধারে সক্রিয় চক্র
সিরাজদিখানে ফসলি জমি কাটার অভিযোগ, রাতের আধারে সক্রিয় চক্র |নয়া দিগন্ত

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ফসলি জমির মাটি কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর মৌজায় রাতের আধারে ভেকু দিয়ে জমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে এ কার্যক্রম। এতে একদিকে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একটি সংঘবদ্ধ চক্র জমির মালিকদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে অল্প দামে মাটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সেই মাটি বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। এতে চক্রটি আর্থিকভাবে লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষিজমি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, চান্দেরচর গ্রামের ইস্রাফিল ও কালাইচান মাতবরের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চলছে। তাদের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, ‘তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেই হামলার ভয় থাকে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কালাইচান মাতবর বলেন, ‘তিনি মাটি কাটার সাথে জড়িত নন, ইস্রাফিল এ কাজ করেন।’

অন্যদিকে ইস্রাফিলও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘অন্যরা মাটি কাটছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলেকচান সজিব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি বারবার বাধা দিয়েছি, কিন্তু বন্ধ করতে পারছি না। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া এটি বন্ধ করা সম্ভব নয়।’

বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আওলাদ হোসেন বলেন, ‘জড়িতদের একাধিকবার নিষেধ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা মাটি কাটছে কি না, তা নিশ্চিত নই। তবে প্রশাসন উদ্যোগ নিলে আমরা সহযোগিতা করব।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র বলেন, ‘ফসলি জমির মাটি কাটা হলে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

সিরাজদিখান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিনথিয়া হোসেন বলেন, ‘আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বিষয়টি এখন জানলাম। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’