বরিশালে ‘নৌযান শুমারি’ সম্পর্কে অবহিত করতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

‘পরিকল্পনা রয়েছে গভীর সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষা করতে তাদেরকে একটি করে ওয়াকিটকি অথবা মোবাইলফোন দেয়া হবে। স্যাটেলাইট ও রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কাছে দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে।’

আযাদ আলাউদ্দীন, বরিশাল ব্যুরো

Location :

Barishal
‘নৌযান শুমারি’ সম্পর্কে অবহিত করতে সেমিনার
‘নৌযান শুমারি’ সম্পর্কে অবহিত করতে সেমিনার |নয়া দিগন্ত

‘নৌযান শুমারি সফল করি, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করি’ স্লোগান নিয়ে আগামী ২০-২৯ আগস্ট নৌযান শুমারি অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে নগরীর সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন ও বিবিএস বরিশালের আয়োজনে ‘অবহিতকরণ সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘একটি সভ্য দেশে শুমারি খুব প্রয়োজন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সম্পদ বণ্টনের সঠিক চিত্র তুলে ধরতে পরিসংখ্যান অফিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের তথ্য ব্যবহার করে। নির্ভুল তথ্য পেতে শুমারি পরিচালনার ক্ষেত্রে ভালো মানের প্রশ্নমালা তৈরি করা প্রয়োজন। সেইসাথে ১৪ বছরের চেয়ে কম বয়সী কারো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা অনুচিত।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের যেসব দেশ নৌ-বিদ্যায় পারদর্শী, তারা বেশি শক্তিশালী। প্রযুক্তির উৎকর্ষে মাছ শিকারের পদ্ধতিতে এসেছে বিরাট পরিবর্তন। বর্তমানে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ে অধিক মাছ শিকার করা সম্ভব। আমাদের দেশের জেলেরা অন্যান্য দেশের জেলেদেরে চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করতে যায়। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে তাদের সাথে দুর্যোগকালীন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ফলে অনেক জেলে অকালে মারা যায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘পরিকল্পনা রয়েছে গভীর সমুদ্রে ঝড় থেকে জেলেদের রক্ষা করতে তাদেরকে একটি করে ওয়াকিটকি অথবা মোবাইলফোন দেয়া হবে। স্যাটেলাইট ও রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কাছে দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দেয়া হবে। পাশাপাশি জেলেদের বোটগুলোতে সোলার প্যানেল থাকবে যেন তারা মোবাইল চার্জ করতে পারেন। এছাড়া জেলেদের জিপিএস ব্যবহারে পারদর্শী করা হবে।’ এ সময় তিনি কাঠের তৈরি নৌকাগুলো যেন স্বল্প টাকায় রেজিস্ট্রেশন পায় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো: মামুন খন্দকারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো: সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লাহ।

অনুষ্ঠানে নৌযান শুমারি-২০২৬ বিষয়ে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বরিশাল বিভাগীয় পরিসংখ্যান অফিসের যুগ্ম পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক মো: আতিকুর রহমান।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন নৌযান মালিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত সব নৌযান, ডাম্ব বার্জ (ইঞ্জিনচালিত নৌযান) ও অন্য কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌযান শুমারির আওতাভুক্ত হবে। তবে সামরিক বাহিনীর নিজস্ব তত্ত্বাবধানে ও তাদের মালিকানাধীন পরিচালিত নৌযান এ শুমারির আওতার বাইরে থাকবে।