দেশে প্রথম বারের মতো চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। দেশের আট বিভাগের মোট তিন হাজার ৮৪৯ জনের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১২৬ জন চাঁদাবাজকে শনাক্ত করেছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশের প্রস্তুত করা এই খসড়া তালিকার অর্ধেকই রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই সমন্বিত অভিযান শুরু হবে। এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশজুড়ে এ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
পুলিশের তথ্য মতে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, হাটবাজার, বালুমহাল, বাস-টেম্পো-স্ট্যান্ড, নৌঘাট, মাছ বাজার, ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার, সরকারি লিজকৃত জমিতে গড়ে ওঠা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, পাইকারি আড়ৎ এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, তালা ঝুলিয়ে দেয়া কিংবা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটায়।
পুলিশ সদর দফতরের তথ্য বলছে, সারাদেশের তিন হাজার ৮৪৯ জন চাঁদাবাজের মধ্যে ঢাকা মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ রয়েছে এক হাজার ২৫৪ জন। বাকি দুই হাজার ৫৯৫ জন চাঁদাবাজ ৬৪টি জেলায়। তালিকাভুক্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে তারা নিজেদের পরিচয়ও বদলে ফেলে। একপর্যায়ে তারা নতুন ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং চাঁদা আদায় করতে শুরু করে।
সূত্র জানায়, গত ৪ মার্চ ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনার পরই মাঠপর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ জোরদার করা হয়। একই সাথে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের একটি পৃথক স্বচ্ছ তালিকাও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতরের তালিকা অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেটে ৩৫, মৌলভীবাজারে ৪৫ জন, হবিগঞ্জে ৩৪ জন ও সুনামগঞ্জে ১২ জন চাঁদাবাজকে শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এই চার জেলার ১২৬ জন চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার।
সূত্র জানিয়েছে, শিগগিরই এই তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে পুলিশ।



