টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণ মামলায় রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া দুই লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো: আব্দুল মজিদ এ দণ্ডাদেশ দেন। আদালতে আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রশিদ মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার আগছাওয়ালী গ্রামের গোলাম মিয়ার ছেলে।
মামলার রায়ে ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া শিশুকে আসামির উত্তরাধিকারী নির্ধারণসহ আসামিকে ওই শিশুর জৈবিক বাবা হিসেবে ঘোষণা দেন আদালত। একইসাথে শিশুর বয়স ২১ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং বয়স ২১ বছরের অধিক হলে বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত তার ভরণপোষণ ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট খন্দকার মো: রোকনুজ্জামান নয়া দিগন্তকে বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে ভিকটিম শিশু বাড়ির পাশে তার দাদিকে ডাকতে যায়। এ সময় প্রতিবেশী আসামি রশিদ মিয়া কৌশলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়।
পরে ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন হলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি জানতে পারেন। একই বছর ২২ ডিসেম্বর ভিকটিম একটি মেয়েসন্তান প্রসব করে। এ ঘটনায় ভিকটিম ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে রশিদ মিয়াকে আসামি করে মামলা করে। বিচারক মামলাটি মির্জাপুর থানা পুলিশকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। বিচার শেষে আসামিকে এই সাজা দেন আদালত। আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট এ কে এম শামীমুল আক্তার।



