নড়াইলে ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় আটক ১, মামলা ও ময়নাতদন্ত হয়নি

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সাহরি সময় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রনি শিকদার নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। এদিকে, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। এছাড়া ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়নি।

Location :

Narail
নড়াইলে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি
নড়াইলে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি |নয়া দিগন্ত

নড়াইল প্রতিনিধি

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে নড়াইল সদর উপজেলার শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে সাহরি সময় বাবা-ছেলেসহ চারজনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রনি শিকদার নামে একজনকে আটক করেছে র‌্যাব। এদিকে, এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের হয়নি। এছাড়া ময়নাতদন্তও সম্পন্ন হয়নি।

চারটি লাশ নড়াইল জেলা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এর আগে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন খলিল শেখ (৭০), তার ছেলে তাহাজ্জত শেখ (৪১), ফেরদাউস হোসেন (৪০) ও ওসিকুর ফকির (৩৬)। এর মধ্যে খলিল, তাহাজ্জত ও ফেরদাউস একপক্ষের লোক। অপরপক্ষে ওসিকুর ফকির নিহত হয়েছেন। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে শিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার পক্ষের রহমত হোসেনের লোকজনের সঙ্গে খলিল শেখের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল। নিহতরা তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা হলেও প্রায় ১০ বছর আগে গ্রাম্য মারামারির কারণে পাশের বড়কুলা গ্রামে বসবাস শুরু করেন। তারপরও তাদের দ্বন্দ্ব থামেনি। বড়কুলা গ্রামে এসেও দুইপক্ষের লোকজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলে আসছিল।

নিহত খলিল খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জুরা বেগম জানান, সোমবার ভোর রাতে সাহরি খেয়ে ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়ার সময় তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্যার পক্ষের ৫০ থেকে ৫৫ জন লোক তাদের বাড়িতে এসে খলিল শেখ ও ছেলে তাহাজ্জত শেখকে ঘর থেকে বের করে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এছাড়া এইপক্ষের ফেরদাউসকেও কুপিয়ে হত্যা করে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের আহত ওসিকুর ফকিরকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ওসিকুর ফকিরদের ৭-৮টি বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।