ফুটপাতের হকাররাও চাঁদাবাজির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের নীরবতায় একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র ফুটপাত, বাজার ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জিম্মি করে রেখেছে। প্রতিদিন আয়ের একটি বড় অংশ লাইনম্যান ও প্রভাবশালীদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হচ্ছেন অসহায় হকাররা।’
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তালদিঘি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ‘যাদের রুটি-রুজি পুরোপুরি ফুটপাতনির্ভর, তারাই আজ সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই এই চাঁদাবাজি চলছে, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।’
এ অবস্থার অবসান ঘটাতে দখলদারি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নতুন করে স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করতে শুরু করেছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর আবারো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্র ফিরে আনার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। লুটপাট, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও গুন্ডামি বন্ধ হয়নি। শাসকের চেহারা বদলালেও শোষণের চরিত্র বদলায়নি।’
‘আবার নতুন করে হেলমেট বাহিনী, হাতুড়ি বাহিনীসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যা দেশের মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে,’ বলেন তিনি।
মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে রয়েছে প্রায় ২১৪ বছরের সংগ্রাম। এ দেশের মানুষ প্রায় ১৯০ বছর ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। এরপর কলকাতাকেন্দ্রিক দাদাবাবু ও হিন্দু জমিদারদের বৈষম্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের খান-পাঠান শাসকদের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এ দেশের মানুষ। এই তিনটি আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়েই অর্জিত হয়েছে লাল-সবুজের পতাকা।’
তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর সাধারণ মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। শাসকগোষ্ঠীর নির্মম পরিহাসের বিরুদ্ধে যখন বাংলার দামাল সন্তানরা জেগে উঠল, তখন কোটি কোটি ছাত্র-জনতা স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্লোগান তোলে। এর জবাবে নেমে আসে জালিমের বুলেট। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় রাজপথ রঞ্জিত হয় শহীদের রক্তে। দেড় হাজারের বেশি মায়ের বুক খালি হয় এবং ৩০ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধা আহত হন। সেই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই সংঘটিত হয় জুলাই বিপ্লব।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জনের পর মানুষ ভেবেছিল দেশের দুঃখ-কষ্টের অবসান হবে। কিন্তু স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৫৪ বছরে শাসকের পরিবর্তন হলেও শাসনের পরিবর্তন হয়নি। বিদেশী শাসকের জায়গায় এসেছে দেশীয় শাসক, কিন্তু জুলুম ও বৈষম্য থেকেই গেছে।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের এই সংকটময় সময়ে দেশের ১১টি রাজনৈতিক দল হাত মিলিয়েছে। আমরা শপথ করেছি—বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম থেকে পিছপা হব না। এই ১১ দলীয় ঐক্য কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়; এটি ১৮ কোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই।’



