টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে।

রনী আহমেদ, কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

Location :

Kotalipara
টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিক্ষোভ
টুঙ্গিপাড়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সাথে যৌন নিপীড়ন, গোপনে ডেকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা ও কুপ্রস্তাব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেছেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়টিতে এ বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার আশ্বাসে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফিরে যান।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, সম্প্রতি বিদ্যালয় চলাকালে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক কুরুচিপূর্ণ কথা ও কুপ্রস্তাব দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ছাত্রীর মা বিদ্যালয়ের একটি অভিভাবক সমাবেশে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানান। অভিযোগের পরও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়নি—এমন অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।

মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

পরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: দিদারুল আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।

এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক তাকে বয়ঃসন্ধিকাল নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন এবং শরীরের পালস মাপার কথা বলে বোরকা খুলতে বলেন। বিষয়টি একাধিকবার প্রধান শিক্ষককে জানানো হলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলেও ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ।

শিক্ষার্থী জ্যোতি সরকার অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শিক্ষক বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীদের আলাদাভাবে ডেকে ব্যক্তিগত ও অশালীন মন্তব্য করতেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী তার শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করা, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শের চেষ্টা এবং একা দেখা করতে বলার অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়া অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক তাকে ব্যক্তিগতভাবে ডেকে ‘সোনা ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করতেন এবং তার পোশাক ও ঠোঁট নিয়ে মন্তব্য করতেন। অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ফলাফল সংক্রান্ত বিষয় দেখানোর কথা বলে তাকে একা ডেকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বলা হয়েছে।

আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শিক্ষক ছাত্রীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে মন্তব্য করতেন এবং একা ডেকে অস্বস্তিকর কথা বলতেন। এসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জানানো হলেও তারা প্রতিকার পাননি বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তারা অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ে দেখতে চান না বলেও জানান।

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার বলেন, ‘একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।