কর্ণফুলীতে মাসোহারা না দিলে সাম্পান ও কার্গো জব্দ করেন এসআই চয়ন

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদীতে চলাচলকারী তেলবাহী সাম্পানগুলোতে পুলিশ বোট নিয়ে উঠে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ অর্থ দিতে রাজি না হলে সাম্পান ও তেল জব্দ করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পর সেগুলো ছাড়িয়ে নিতে হয়।

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

Location :

Chattogram
কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চয়ন কুমার দাশ
কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চয়ন কুমার দাশ |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) চয়ন কুমার দাশের বিরুদ্ধে মাসোহারা আদায় ও ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তেল ব্যবসায়ী, কার্গো অপারেটর এবং নৌপথে পণ্য পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যবসায়ীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তেলবাহী সাম্পান ও কার্গো জাহাজ জব্দ করে রাখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীরা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এসআই চয়ন কুমার দাশ তার অধীনস্থ এক কনস্টেবলের মাধ্যমে ডাঙ্গারচর, গ্রামকুল ও বাংলাবাজার ঘাট এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন। ব্যবসাভেদে মাসে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কর্ণফুলী নদীতে চলাচলকারী তেলবাহী সাম্পানগুলোতে পুলিশ বোট নিয়ে উঠে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। কেউ অর্থ দিতে রাজি না হলে সাম্পান ও তেল জব্দ করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোটা অঙ্কের অর্থ পরিশোধের পর সেগুলো ছাড়িয়ে নিতে হয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, কর্ণফুলী নদীর আউটার এলাকায় বড় মাদার ভেসেল থেকে কার্গো জাহাজে পণ্য খালাসের সময় ভাউচারের সাথে পণ্যের অমিল, অতিরিক্ত পণ্য বা চোরাই মালামালের অভিযোগ তুলে প্রতি ট্রিপে দুই হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে কার্গো জাহাজ আটকে রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা দেয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ডাঙ্গারচর ও গ্রামকুল এলাকার অন্তত ১১ জন ব্যবসায়ী এবং বাংলাবাজার ঘাটের ১২টি ব্যবসা ও শিপিং-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১৪ হাজার টাকা, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। সব মিলিয়ে প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এর আগেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপপুলিশ কমিশনারের কাছে একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই তারা আইজিপির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তাদের দাবি, নিয়মিত চাঁদাবাজি ও হয়রানির কারণে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অনেকেই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডাঙ্গারচর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই চয়ন কুমার দাশ। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’