মৌলভীবাজারের রাজনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন যেন থামছেই না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বালুলুটেরারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেই মনে করছে সচেতন মহল। তবে প্রচার রয়েছে যে, সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই উপজেলার ইজারাবিহীন বালুমহাল থেকে প্রতিদিন লাখ টাকার বালু লুট হচ্ছে।
এদিকে লুণ্ঠিত বালু পরিবহনের সময় মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্ট চালিয়ে শ্রমিকদের জেল-জরিমানা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার মোকামবাজার এলাকা থেকে লুণ্ঠিত বালু বিক্রির সময় ৪ জনকে আটক ও ৫টি নৌকা জব্দ করে জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের জামিলা ছড়া, হারছড়া, ধামাইছড়া, কালামুহাসহ কয়েকটি বালুমহাল দীর্ঘ ১ যুগ ধরে ইজারাবিহীন রয়েছে। এসব বালুমহালের ইজারা মূল্য বর্তমানে কোটি টাকারও বেশি। বিগত সরকারের সময় এসব বালুমহাল থেকে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা দেদারসে বালু লুট করেন। সরকার পতনের পর থেকেই সেই বালুমহালের দখল নিয়েছেন বিএনপি-যুবদলের নেতারা। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ম্যানেজ করে তারাই এখন হয়ে উঠেছেন বালুমহালের ভোক্তা।
প্রশাসনের দায়সারা ভাব ও নজরদারি না থাকায় দিনে-রাতে সমানতালেই তারা এসব বালুমহাল থেকে বালু লুট করছে। প্রশাসনের মোবাইল কোর্টে প্রায়ই নৌকা ও ট্রাকশ্রমিকরা ধরা পড়লেও মূল হোতারাই সবসময় থেকে যান পর্দার আড়ালে। শ্রমিকরা ধরা পড়লে সেই নেতারাই জরিমানা পরিশোধ করে ছাড়িয়ে নিয়ে যান তাদের। ছাড়া পেয়ে আবারও নেমে পড়েন বালু উত্তোলনে।
মঙ্গলবার উপজেলার ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির সময় ৪ জনকে আটক ও ৫টি বালুর নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা হোসেন তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।
আটককৃতরা হলেন—মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সুনাটিকি গ্রামের আফতাব আলীর ছেলে ফেরদৌস আলী (৫০), ইদান উল্লার ছেলে সিজিল মিয়া (৪০), সিফাত উল্লার ছেলে রুহেল মিয়া (২৪) ও খয়াজ উল্লার ছেলে সিলি মিয়া (৩৫)। তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। জব্দ ৫টি নৌকা পরবর্তীতে স্থানীয় একজন ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, ‘এতদিন এসিল্যান্ড ছিলেন না। যার কারণে নিয়মিত অভিযান চালানো যায়নি। এসিল্যান্ড চলে এসেছেন। এখন থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। আমি নিজেও বিভিন্ন বালুমহালে অভিযান চালাব।’
ম্যানেজ করে বালু উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ শোনা যায়, তবে অভিযান চালিয়ে সবাইকেই ধরা হবে।’



