হারি বৈসুর মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ শুরু

চৈত্রের ভোরের প্রথম আলোয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসাই পরিধান করে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসাতে জড়ো হন ত্রিপুরা নারীরা।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

Location :

Khagrachari
গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসাচ্ছেন ত্রিপুরা নারীরা
গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসাচ্ছেন ত্রিপুরা নারীরা |নয়া দিগন্ত

খাগড়াছড়িতে ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর মুল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ত্রিপুরাদের বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর প্রথম দিনকে বলা হয় হারি বৈসু। ত্রিপুরা পঞ্জিকা অনুযায়ী চৈত্র মাসের ২৯ তারিখ এই আয়োজন করা হয়।

এ দিন ভোরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করে, গোসল করে তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, গহনা পরিধান করে নদী, ছড়া, খালে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করেন। চৈত্রের ভোরের প্রথম আলোয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক রিনা-রিসাই পরিধান করে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে ফুল ভাসাতে জড়ো হন ত্রিপুরা নারীরা।

বাহারী রঙের ফুল, কলাপাতায় সাজিয়ে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে নিবেদন করে পুরাতন বছরকে বিদায় জানায় আর নতুন বছরকে বরণ করে নেন ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষরা। এ সময় তরুণীরা নিজেদের হাতে তৈরি করে আনা ছোট ছোট রিসা বা উড়না ফুলসহ পানিতে ভাসিয়ে দেয়। ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ছড়ার পানিতে হইহুল্লোড় করে, একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে বড়দের সাথে আনন্দে মেতে ওঠে।

ঐতিহ্যকে ধারণ করে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বৈসু উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে জেলা শহরের পল্টন জয় এলাকায় আয়োজিত বৈসুর আনুষ্ঠানিকতার উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জানাত বিথী।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার ও ত্রিপুরা সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজন চলবে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত। এদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অনেকে আজ সোমবার নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় মাতাই পুকুরি বা দেবতা পুকুর যান পুজা দিতে।

অন্যদিকে চাকমাদের আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিন মুল বিজু। ঘরে ঘরে নানা প্রকার সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার পাজন দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন হচ্ছে। মারমাদের সাংগ্রাই উৎসেবর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে।