বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রামে ধানের শীষের মিছিল থেকে দাঁড়িপাল্লা মার্কার কর্মী, জুলাইযোদ্ধা গালিবকে মেরে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার ভুস্কুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনার মধ্যেই উপজেলার থালতামাজগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াতের দুই কর্মীকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৫-৬ জন আহত হয়।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া প্রেসক্লাবে উভয় পক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরকে দাযী করেছে। ।
বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, সোমবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহেল গালিব (২২) ভুস্কুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় ধানের শীষের একটি মিছিল থেকে গালিবের ওপর হামলা চালানো হয়। তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে বেদম মারধর করা হয়। এ নিয়ে জামায়াত কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে পারশুন গ্রামে বিএনপির লোকজন জামায়াত কর্মী ফারুক ও বেল্লালকে তুলে নিয়ে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করে। এখবর পেয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আটক দুই কর্মীকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি নেতা মাসুদ রানা, জামায়াত কর্মী ফারুক, বেল্লাল, আমিনুলসহ ৪-৫ জন আহত হয়। আহতদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণকালে বিএনপি কর্মীরা পারশুন গ্রামের জামায়াতের দুইজনকে আটক করে পুলিশে সংবাদ দেয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা করে বাড়ি ভাঙচুর করে এবং মাসুদ রানাকে মারধ করে গুরুতর আহত করে তাদের কর্মীকে ছিনিয়ে নেয়।
অপর দিকে, জামায়াত প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে অপর এক সংবাদ সম্মেলন করে সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ভাটগ্রাম ইউনিয়নের ভুস্কুর গ্রামে চোখ হারানো জুলাই যোদ্ধা আব্দুল্লাহেল গালিব হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা শেষে ফেরার সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা লুৎফর মেম্বারের নেতৃত্বে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তার ডান হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া একই দিনে থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশুন গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের কর্মী ফারুক হোসেন প্রচারণা চালানোর সময় বিএনপির সন্ত্রাসী মাসুদের নেতৃত্বে তাকে বেধড়ক মারধর করে তার বাড়িতে তাকে বেঁধে রাখে। পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করার পরও দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ায় উত্তেজিত এলাকাবাসী মাসুদ বাহিনীর হাত থেকে জামায়াত কর্মীদের উদ্ধার করতে গেলে বিএনপির লোকজন তাদের ওপরও হামলা চালায়। এতে বেশ কিছু নেতাকর্মী আহত হন। বিএনপি নেতা মাসুদ এলাকার অমুসলিম ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশ পৌঁছার আগেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের যে অভিযোগ করা হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।



