প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্তকরণ এবং সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ বার্তা দেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পৌরসভা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ফুটপাত দখলমুক্ত এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।
এ সময় এমপি বলেন, ‘পর্যটননির্ভর শ্রীমঙ্গলের স্বার্থে প্রশাসনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’
এমপি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। তাদের বাধাগ্রস্ত না করে সহযোগিতা করতে হবে।’
বিশেষ করে বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণ দলের ওপর আস্থা রেখে ভোট দিয়েছে। তাই সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার দায়ও তাদের নিতে হবে। শহরকে শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলের অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি পর্যটন। তাই পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।’
কোনো পর্যটক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করা মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
যানজট নিরসনে তিন মাসের মধ্যে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে একটি সমন্বিত ট্রাফিক নীতিমালা প্রণয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে শহরের বাইরে বাস কাউন্টার ও নির্ধারিত স্থানে বাস রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শহরের ভেতর দিয়ে শুধু দূরপাল্লার বাস চলবে। অটোরিকশার স্ট্যান্ডও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে।’
এমপি জানান, শহরের পাশে বহুতল পার্কিং ভবন ও একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত দখল করে দোকান বা ভাসমান হকার বসতে দেওয়া হবে না। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কেউ ব্যবসা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার বা জনপ্রতিনিধিকে ব্যর্থ করার উদ্দেশ্যে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। নিজের দলের কেউ অপরাধে জড়িত থাকলেও ছাড় দেয়া হবে না।’
তার নাম ব্যবহার করে কেউ অবৈধ তদবির করলে প্রয়োজন হলে তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা, পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সংগঠন প্রতিনিধি, বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



