কামাল উদ্দিন সুমন ও রিপন মাহমুদ আকাশ, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ‘কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা।
এতে মহাসড়কের উভয়পাশে সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কের উভয় পাশে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৩ নম্বর ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ‘কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে গার্মেন্টস মালিক কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শ্রমিকরা নিজেদের বকেয়া বেতন ও গার্মেন্টসটি খোলা রাখার দাবিতে মহাসড়কের মৌচাক অংশে প্রতিবাদে নামেন।
শ্রমিকরা জানান, দাবি না মানা পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। কোনো নোটিশ ছাড়া এবং পাওনা বেতন না দিয়ে গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। শ্রমিকরা বকেয়া বেতন পরিশোধসহ প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালু করার দাবি জানান।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে আমরা রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সাথে শ্রমিকদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার চেষ্টা চলছে।
খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের আমরা বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তারা যৌক্তিক আন্দোলন করছেন। আমরা মালিকপক্ষের জন্য অপেক্ষা করছি, তাদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত আপডেট দেয়া যাবে। যানজট ধীরে ধীরে ছুটছে। কিছুক্ষণের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’
কারখানাটির পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘কেবলমাত্র গত মাসের (নভেম্বর) বেতন বকেয়া আছে। বিষয়টি সমাধানে কারখানা কর্তৃপক্ষ কাজও করছে। কিন্তু এরই মধ্যে বাইরের কেউ ইন্ধন দিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে গুজব ছড়ায়। আমরা শ্রমিকদের নিয়েই বিষয়টি সমাধান করব। তাদের বেতন দ্রুতই পরিশোধ করা হবে।’
শিল্প পুলিশের পরিদর্শক সেলিম বাদশা জানান, বকেয়া পরিশোধের বিষয়টি মালিপক্ষকে দ্রুত সমাধানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।



