‘বর্তমান সরকার কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না’ বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং একটি বৈষম্যহীন, সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
শনিবার (৪ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার চরকোশুন্ডা সর্বজনীন কালীমন্দিরে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক কালীপূজা ও ভক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজন কান্তি সরকার বলেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’—এই নীতিতে সরকার বিশ্বাসী। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে ও মর্যাদার সাথে পালন করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ, আর সেই বাংলাদেশকে সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সব ধর্মের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষায় ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন, পৃথক সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক। একই সাথে দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও এস এ জিন্নাহ কবির বলেন, ‘কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বীর ওপর জুলুম-নির্যাতন হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো তাদেরও সমান অধিকার রয়েছে এবং সেই অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
মন্দির কমিটির সভাপতি গৌরাঙ্গ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এস এন তরুণ দে এবং তপন মজুমদার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা তুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দিপু, ঘিওর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মীর মানিকুজ্জামান মানিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শওকত আলী খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভা শেষে এবিজি গ্রুপের উদ্যোগে এলাকার অসহায় ও দুস্থ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।



