বছরের প্রথম দিনে নতুন পাঠ্যবই পেয়ে উচ্ছ্বসিত খাগড়াছড়ির শিক্ষার্থীরা। তবে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হওয়ায় পাঠ্যবই বিতরণ ঘিরে এবছর কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই জেলার বিদ্যালয়গুলোতে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে জেলা শহরের নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাইস্কুল, খাগড়াছড়ি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ প্রতিটি বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেয়া হয়।
খাগড়াছড়ি জেলায় বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই পেয়েছে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, খাগড়াছড়ি জেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য মাতৃভাষায় বই বিতরণ কার্যক্রমও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত চাকমা ভাষায় ১২ হাজার ৯৬৫ জন, মারমা ভাষায় ৮ হাজার ১০৭ জন এবং ত্রিপুরা ভাষায় ৯ হাজার ৯৪৩ জন শিক্ষার্থী মাতৃভাষার পাঠ্যবই পেয়েছে। এছাড়াও প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৭৬ হাজার ৫০৭ জন শিক্ষার্থী নতুন বই পাওয়ার আওতায় রয়েছে।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৮৯টি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৩৪ হাজার বই বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেছে। এবং ইতোমধ্যে ৬ লাখ ৬৪ হাজার বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ।
খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুভাষ চন্দ্র শিকদার বলেন, ‘বিদ্যালয়ের চাহিদার প্রায় ৮০ ভাগ বই ইতোমধ্যে এসে গেছে। সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ শুরু করা হয়েছে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল মৃধা জানান, ‘ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার বইসহ প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সকল শ্রেণির শতভাগ বই জেলার সব বিদ্যালয়ে পৌঁছে গেছে। বছরের প্রথম দিনেই অধিকাংশ বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’



