চকরিয়ায় নৌকা ডুবে আপন ২ বোনের মৃত্যু

বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় বন্যার পানিতে বাড়ির চালা পর্যন্ত ডুবে যায়। প্রাণ রক্ষার জন্য কৃষক আবদুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে অন্যত্র যাচ্ছিলেন।

রফিক আহমদ, চকরিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Chakaria
বন্যায় ডুবে গেছে ঘরবাড়ি
বন্যায় ডুবে গেছে ঘরবাড়ি |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় নৌকা ডুবে হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা (১২) ও জেরিন (৭) নামে আপন দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অপর বোন সাওরিন মনি (১০) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই বোন ওই এলাকার কৃষক আবদুল মালেকের মেয়ে।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় বন্যার পানিতে বাড়ির চালা পর্যন্ত ডুবে যায়। প্রাণ রক্ষার জন্য কৃষক আবদুল মালেক তার পরিবারের সদস্যদের নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। এ সময় বাতাসের কবলে পড়ে এবং বন্যার পানির স্রোতে নৌকাটি ডুবে গেলে তার তিন মেয়ে নিখোঁজ হয়।

এর মধ্যে দুই বোন জেরিন ও সাওরিন মনিকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে জেরিনের মৃত্যু হয় এবং সাওরিন মনিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বড় বোন হাসনাতুল জান্নাত ঝর্ণা নিখোঁজ থাকলেও ছয় ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।

বরইতলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে নৌকা ডুবে দুই বোনের মৃত্যু হয়।

এর আগে, কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশু ওয়াকিম ওই এলাকার সুলতান আহমদের ছেলে।

কাকারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে টানা ছয় দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলায় ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এলাকার শত শত ঘরবাড়ি, সড়ক বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। এতে এলাকার লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় রাজনৈতিক দল ও সরকারিভাবে তেমন কোনো সহায়তা দেয়া হয়নি বলেন জানান স্থানীয় জনসাধারণ।

চকরিয়া ও মাতামুহুরি উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহীন দেলোয়ার সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে চকরিয়া পৌরশহর রক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় মাতামুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বাঁধে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য মাইকিং করে সর্তক করা হয়।