নবাবগঞ্জে চাচির প্রতি ক্ষোভে ৭ বছরের চাচাত ভাইকে হত্যা

শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমানুর ইসলাম কৌশলে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি মাদরাসার কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন আমানুর ইসলাম। হত্যার পর লাশটি পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে আসেন তিনি।

Location :

Nawabganj
আটক হত্যাকারী আমানুর ইসলাম
আটক হত্যাকারী আমানুর ইসলাম |নয়া দিগন্ত

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় চাচির প্রতি দীর্ঘদিনের ক্ষোভে সিরাজুল আল শামস (৭) নামের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগে তারই চাচাত ভাই আমানুর ইসলাম (২১) গ্রেফতার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিশু সিরাজুল ইসলাম সামস উপজেলার কুশদহ ইউনিয়নের আমরুলবাড়ী গ্রামের মমিনুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমানুর ইসলাম কৌশলে শিশুটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে পাশের একটি মাদরাসার কক্ষে নিয়ে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন আমানুর ইসলাম। হত্যার পর লাশটি পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে আসেন তিনি।

পরে শিশুটির মা ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে আমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আমানুর ইসলামকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আটক আমানের জবানবন্দি অনুযায়ী চাচির প্রতি ক্ষোভ ও সম্পত্তিগত বিরোধ থেকেই তার মধ্যে হিংসা ও বিদ্বেষ তৈরি হয়, যা থেকে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।’