চুয়াডাঙ্গায় নিজ প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ীকে মারধর, চাঁদাবাজির অভিযোগে থানায় মামলা

দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: কাওছার আলী।

এফ এ আলমগীর, চুয়াডাঙ্গা

Location :

Chuadanga
মারধরের দৃশ্য
মারধরের দৃশ্য |নয়া দিগন্ত

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার সুমিরদিয়া নীলার মোড়ে এক মুদিদোকানি ও বিকাশ এজেন্টকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয়া এবং পরবর্তীতে আরো এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ উঠেছে।

আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ছয়-সাতজনকে অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো: কাওছার আলী।

অভিযুক্তরা হলেন—তপু, তিতাস, সজল, মুন্না, ইকবাল, সজীব ও আশা। ভুক্তভোগী কাওছার আলী সুমিরদিয়া ক্লাবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় নীলার মোড়ে মুদি ও বিকাশ এজেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় অভিযুক্ত তিতাস ও আশা ইয়াবা সেবনের কথা বলে কাওছারের ছোট ভাই সুমনের কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। সুমন বিষয়টি তার ভাইকে জানালে অভিযুক্তরা কাওছারের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরবর্তীতে ২০ আগস্ট সকালে অভিযুক্ত তপু মোবাইল ফোনে কল করে কাওছারের কাছে পাঁচ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। কাওছার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চাপ সৃষ্টি করা হয়।

একই দিন দুপুরে তপু, তিতাস ও সজল দোকানে এসে ড্রয়ার থেকে জোরপূর্বক ৪০০ টাকা নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে আবারো আসবেন বলে হুমকি দেন। এরপর সন্ধ্যায় অভিযুক্ত আশা দোকানে এসে টাকার জন্য তাগিদ দেন এবং রাতে তপু ফোনে পুনরায় টাকা চান।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাওছার দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিলে তপু ও তিতাস এসে তাকে মারধর করেন এবং জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে কেদারগঞ্জ আদর্শ স্কুলের মাঠে নিয়ে যান। অভিযোগে বলা হয়, স্কুলের নৈশপ্রহরী সাগরের সহযোগিতায় স্কুলের গেট খুলে ভেতরে নিয়ে কাওছারকে মারধর ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ১৪ হাজার ৩০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়।

অভিযুক্তরা হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী সোমবারের মধ্যে এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে, নয়তো এক লাখ টাকার স্ট্যাম্প সই করে দিতে হবে। তা না করলে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়ারও হুমকি দেয়া হয়। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।