রংপুরে মতবিনিময় সভায় কৃষি সচিব

সারের বরাদ্দ ও সরবরাহে ঘাটতি নেই, বিতরণে সমস্যা

কৃষি সচিব বলেন, সরকার ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রেখেছে। সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে ডিলাররা ডিও পাওয়ার পরও সময়মতো সার না তুলে মজুদ করে রাখছেন-এমন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। পরে এসব সার পাচার বা বেশি দামে বিক্রির আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

রংপুর ব্যুরো

Location :

Rangpur

দেশে সারের বরাদ্দ ও সরবরাহে কোনো সঙ্কট নেই, তবে বিতরণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে মাঠপর্যায়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান। সময়মতো সার না তুলে মজুদ করে রাখা, বেশি দামে বিক্রি ও পাচারের মতো অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রোববার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মাঠপর্যায়ে সার ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সার ডিলার, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন, বিএডিসির সার ডিলার ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

কৃষি সচিব বলেন, সরকার ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুদ রেখেছে। সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে ডিলাররা ডিও পাওয়ার পরও সময়মতো সার না তুলে মজুদ করে রাখছেন-এমন তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। পরে এসব সার পাচার বা বেশি দামে বিক্রির আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

সভায় সার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। তারা জানান, সার সঙ্কট না থাকলেও কোথাও কোথাও সরবরাহ ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে টিএসপি সারের বরাদ্দ কম বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, সার নিয়ে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা হতে পারে। তাই সার ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ও কঠোর মনিটরিং প্রয়োজন। বেশি দামে সার বিক্রি বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান তিনি।

রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, সারের বরাদ্দে সমস্যা নেই; মূল সমস্যা সরবরাহ ব্যবস্থাপনায়। ডিলার থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন।

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী সারের ঘাটতি নেই। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ঘাটতির অভিযোগ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটিকে আরো সক্রিয় করার পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনভিত্তিক সঠিক তথ্যভাণ্ডার তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের মোট চাহিদা ১৮ লাখ ৯ হাজার ৫০৩ মেট্রিক টন। সমপরিমাণ সার মজুদ রয়েছে এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত আছে।

বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, র‌্যাব-১৩-এর অধিনায়ক কর্নেল মঞ্জুর করিম, বিজিবি ৫৯ ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিসহ আট জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তা ও সার ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ন্যায্য দামে সার পাওয়ার দাবিতে ৯ আগস্ট নীলফামারীর সৈয়দপুর এবং ১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ইউরিয়া ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।