সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পা হারিয়ে অসহায় কাশেম মিয়া, অনাহারে পরিবার

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের সিংজুরী গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে কাশেম মিয়া শুভযাত্রা পরিবহনের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আব্দুর রাজ্জাক, ঘিওর (মানিকগঞ্জ)

Location :

Ghior
কাশেম মিয়া
কাশেম মিয়া |নয়া দিগন্ত

এক সময় বাস চালিয়ে পরিবার নিয়ে স্বচ্ছল জীবন কাটাতেন কাশেম মিয়া (৩২)। আজ তিনি দুই পা হারিয়ে হুইলচেয়ারে বন্দী, জীবনযুদ্ধে পরাজিত এক অসহায় মানুষ। ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে তার জীবনের সব হিসাব।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের সিংজুরী গ্রামের জবেদ আলীর ছেলে কাশেম মিয়া শুভযাত্রা পরিবহনের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বছর দুই আগে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের বাথুলী এলাকায় একটি আন্তঃজেলা ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। দুর্ঘটনায় তার দুই পা মারাত্মকভাবে থেঁতলে যায়।

আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস চিকিৎসা চললেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকরা বাধ্য হয়ে প্রথমে বাম পা এবং পরে একাধিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডান পা কেটে ফেলেন।

এক বছরের ব্যবধানে দুই পা হারিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন কাশেম মিয়া। বর্তমানে তার চলাফেরার কোনো সক্ষমতা নেই। ভাঙাচোরা একটি হুইলচেয়ারই তার একমাত্র আশ্রয়। এমনকি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক কাজ সম্পন্ন করতেও তিনি অক্ষম। সার্বক্ষণিক স্ত্রীকেই তার দেখভালের দায়িত্ব নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসা বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নিজের বসতভিটা বিক্রি, সঞ্চিত অর্থ এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ খরচ চালাতে হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, তার সুস্থতার জন্য আরো অন্তত ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

বর্তমানে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। আর্থিক অনটনের কারণে সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় কাশেম মিয়া ঘিওর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে দোকানে দোকানে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন। তবে সেই সামান্য সাহায্যে সংসার ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এক বছর ধরে অন্যের জমিতে ছাপড়া ঘর তুলে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। এমন করুণ অবস্থায় নিজের জীবন ও পরিবারের ভবিষ্যৎ রক্ষার্থে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন কাশেম মিয়া।

সহযোগিতা করতে ইচ্ছুকরা তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৭৯৮-৩৩০৬৫৩-এ যোগাযোগ করতে পারেন।