শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার ও পিয়নের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস ও পিয়ন তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

শৈলকুপা (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

Location :

Shailkupa
শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার ও পিয়নের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ
শৈলকুপার বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার ও পিয়নের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ |নয়া দিগন্ত

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস ও পিয়ন তোতা মিয়ার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১০ নম্বর বগুড়া ইউনিয়নের ভূমি অফিসার নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস ও অফিসের পিয়ন তোতা মিয়া সরকারি আইন অমান্য করে প্রতিদিন ১০টার পরে অফিসে আসেন এবং ৩টার পরে অফিস থেকে চলে যায়। যে কারণে অফিসে আসা জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

সরেজমিনে গত সোমবার (৯ মার্চ) গিয়ে দেখা যায় উক্ত ভূমি অফিসার নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস সকাল সাড়ে ১০টার সময় অফিসে আসেন। কেন দেরি করে অফিসে আসলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসি সাহেব জানে। তার সাথে কথা বলেন। আবার ও কে এই এসি তার নাম কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসিল্যান্ড দেবাশীষ অধিকারী।

এর কিছু সময় পর বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে আসলেন অফিসের পিয়ন তোতা মিয়া। কেন অফিসে দেরিতে আসলেন জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের সাথে অশ্লীল আচরণ করেন এবং বলেন আপনার ভিডিও করার অনুমতি কে দিয়েছে। উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, অফিস থেকে বের হয়ে যান আমি কখন অফিসে আসবো আর কখন যাইবো এটা দেখার দায়িত্ব সাংবাদিকের না আমার কর্তৃপক্ষ আছে।

এদিকে ভূমি অফিসে জমির খাজনা দিতে আসা দলিলপুর গ্রামের জালাল উদ্দীন জানান, আমি চারদিন ধরে একটা পর্চার ফটোকপি নেয়ার জন্য আসলেও টাকা না দেয়ার কারণে ঘুরতে হয়েছে। পরে অফিসের পিয়ন তোতা মিয়া আমার কাছ থেকে ২শ’ টাকা নিয়ে একটি পর্চার ফটোকপি দিয়েছে। এছাড়াও এই অফিসের ভূমি কর্মকর্তা নিকুঞ্জ কুমার বিশ্বাস আমার জমির খাজনা হিসেবে বেশি টাকা নিয়ে ১১৫ টাকার অনলাইনের একটি রশিদ ধরিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে মকরামপুর গ্রামের মান্না নামের এক ব্যক্তি জানান, এই ভূমি অফিসে যারা চাকরি করেন তারা কেউ সরকারি আইন মানে না। ইচ্ছামতো অফিসে আসা-যাওয়া করে। ভূমি সংক্রান্ত অফিসে কাজ করতে আসা বিভিন্ন এলাকার লোকেরা প্রতিনিয়তই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে। সেই সাথে অফিসের পিয়ন তোতা মিয়া সবার সাথে খারাপ আচরণ করে। তার আচরণ এতটাই খারাপ যা প্রকাশ করার মতো না।

তিনি আরো জানান, সাংবাদিকের সাথে আমার সামনে যে আচরণ করলো তা মানা যায় না। তারা কেউ সরকারি নিয়মে অফিস করে না।

এ ব্যাপারে শৈলকূপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান জানান, সরকারি আইন অমান্য করে অফিসে যাতায়াত ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।