বকশীগঞ্জ তীব্র শীত আর কুয়াশা, ঝুঁকির মুখে বোরো ধানের বীজতলা

কৃষকদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চারা সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

Location :

Jamalpur
ছবি : নয়া দিগন্ত

জেঁকে বসা তীব্র শীত এবং টানা ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে জামালপুরের বকশীগঞ্জে বোরো ধানের বীজতলা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে হতাশায় উপজেলার কৃষকরা। তীব্র ঠান্ডায় চারা মরে যাওয়া এবং পাতা হলদে হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক স্থানে চারা রক্ষায় ছত্রাকনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করেও সুফল মিলছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে মূল জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১২ হাজার ৯ শত ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বিপরীতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৪ শত ৯৪ হেক্টর জমিতে। তবে গত কয়েক দিনের হাড়কাঁপানো শীতে অনেক বীজতলা সাদা রং ধারণ করেছে। কোথাও চারার গোড়ায় পচন ধরেছে, আবার কোথাও চারা শুকিয়ে যাচ্ছে।

বগারচর ইউনিয়নের কৃষক সালাম মিয়া বলেন, শীত আর কুয়াশায় অধিকাংশ বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেকের চারা পুরোপুরি মরে গেছে। নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে গেলে চাষের খরচ অনেক বেড়ে যাবে।

সাধুরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক দিলবার মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, পাঁচ বিঘা জমির জন্য সাত হাজার টাকা খরচ করে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। চারাগুলো খুব সুন্দর হয়েছিল, কিন্তু কয়েক দিনের কুয়াশায় সব সাদা হয়ে পচে যাচ্ছে। এখন চারা না পেলে জমি রোপণ করব কিভাবে।

কৃষি বিভাগ এই পরিস্থিতিকে ‘কোল্ড ইনজুরি’ বা শৈত্যজনিত আঘাত হিসেবে চিহ্নিত করেছে। শৈত্যপ্রবাহের ক্ষতি থেকে বীজতলা বাঁচাতে কৃষকেরা নিজস্ব উদ্যোগে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, চারায় গরম পানি ছিটানো এবং জমিতে জমা পানি নিয়মিত পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আমিনুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলায় কিছু সমস্যা দেখা দিলেও মাঠপর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। রাতের বেলা বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা এবং সকালে রোদ উঠলে তা সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

রোদ উঠলে এই সমস্যা কেটে যাবে এবং চারার সজীবতা ফিরে আসবে বলে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, যথাযথ পরিচর্যা করলে কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তবে কৃষকদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চারা সঙ্কটের কারণে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে।