কলাপাড়ায় শহীদ জিয়ার স্মৃতি বিজড়িত স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন শুরু

‘মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির দুই তীরে রয়েছে ১৪টি গ্রাম।’

হুমায়ুন কবীর, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন
খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন |নয়া দিগন্ত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত পটুয়াখালীর কলাপাড়ার স্বনির্ভর খাল দীর্ঘ ৪৫ বছর পর আবার পুনঃখনন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির স্মৃতিচারণ করে স্থানীয়রা বলেন, ৪৫ বছর আগে এই খাল যদি খনন করা না হতো, তাহলে ১৪টি গ্রামে ধানসহ কৃষি উৎপাদন হতো না। সেদিন তারাও জিয়াউর রহমানের সাথে খাল খননে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন সূত্রে জানা গেছে, এক কোটি ৩৪ লাখ ২২ হাজার ২৯০ টাকা ব্যয়ে মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৪৫০ মিটার খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। খালের গভীরতা হবে ১০ ফুট এবং উপরের প্রস্থ হবে ৭০ ফুট।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকছেদুল আলম বলেন, ‘আগামী ৪০ দিনে প্রথম দফায় দেড় কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সফরে এসে স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলী দুই ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত বিস্তৃত। ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ খালটির দুই তীরে রয়েছে ১৪টি গ্রাম। ৪৫ বছর আগের খনন করা সেই খাল এখন দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শীত মৌসুমে মিঠা পানির সংরক্ষণের অভাবে দুই ইউনিয়নের পাঁচ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। লবণ পানিতে মারা যেত শত শত হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশু। কর্মহীন থাকতেন শত শত কৃষক।’

মিঠাগঞ্জ ও বালিয়াতলীর গ্রামবাসী, সাংবাদিক ও বিনপির সিনিয়র নেতা ঝুনু কবির, রফিক পলায়ন, ইসমাইল গাজী বলেন, খালটি খননের মাধ্যমে তারা যেমন নতুন কর্মসংস্থান পেয়েছেন, তেমনি আবার নতুন করে চাষাবাদ করতে পারবেন। মাছের চাষা করতে পারবেন। লবণ পানির কারণে মারা যাবে না কোনো গবাদি পশু।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ সঙ্কটে ছিলেন কৃষকরা। খনন সম্পন্ন হলে কয়েক শ’ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এটি এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করে কৃষি উৎপাদনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবা উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, যুগ যুগ ধরে এ খাল পুনঃখননের দাবি করে আসছিল এলাকার মানুষ। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে হাল খননের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।

খাল খননের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। তার ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেই এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেন। সারাদেশের সাধারণ মানুষের মতো কলাপাড়াবাসীও আজ অনেক খুশি। পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি খাল খনন করা হবে।’