মাদকাশক্তি মুক্ত করে নতুন প্রজন্মকে মানবসম্পদকে পরিণত করার মাধ্যমে দেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র, অপশাসন-দুঃশাসনমুক্ত করার প্রত্যয়ে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘ পরিসরে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১ শাহআলী মাজারের সামনে ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াত আয়োজিত চারদিন ব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সূচনা পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘মাদক ও মাদকাশক্তি আমাদের নতুন প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে আমাদের জাতীয় জীবনের অবক্ষয় এখন প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সন্তানরা পিতামাতার সাথে ভালো আচরণ করছে না। মূলত, ধর্মীয় শিক্ষা; মূল্যবোধ ও অনুশাসনের অভাবেই আমাদের সন্তানরা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে। তাই জাতিকে এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে বাঁচাতের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্লে গ্রুপ থেকে শুরু করে স্নাতকোত্তর শ্রেণি পর্যন্ত কোরআনের শিক্ষা অত্যাবশ্যক এবং রাসুল (সা.) এবং তার আসহাবগণের জীবনী পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলেই দেশ ও জাতিকে অধঃপতনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।’
তিনি সকলকে বাস্তবজীবনে ধর্মীয় আদর্শ ও অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানবীয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখানো হয় না। ফলে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসনের অভাব এবং অসৎসঙ্গেই আমাদের সন্তানরা সিগারেট হাতে তুলে নিচ্ছে। আর সিগারেটের নিকোটিনের কারণেই তারা দুরারোগ্য ব্যাধীতে আক্রান্ত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাবেই তারা মাদকাসক্ত হয়ে নিজেদেরকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই দেশ ও জাতিকে মাদকাশক্তির কালো থাবা থেকে মুক্ত করতে হলে ব্যাপকভিত্তিক জনসচেতনার কোন বিকল্প নেই। একই সাথে সমাজের সকল স্তরে মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা দরকার।’
তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে দলমত নির্বিশেষ সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর আহ্বান জানান।
মহানগরী আমির বলেন, ‘এ সরকার জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারকে জুলাইয়ের আদর্শ ও চেনতা অনুসরণ করেই সামনের দিকে এগোতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারকে দেখাতে হবে শূণ্য সহনশীলতা। নতুন প্রজন্মকে আত্মসচেতন করতে পাড়ায় পাড়ায়; মহল্লায় মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে। একই সাথে গড়ে তুলতে হবে অনলাইন প্রচারণা।’
তিনি মাকদ বিরোধী আন্দোলনকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ডা: মঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত ও মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারী ড. মোস্তফা ফয়সাল প্রমুখ।



