টানা চারদিনের ভারী বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে ঝালকাঠির বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি স্বাভাবিকের তুলনায় দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে আমন ধানের বীজতলার বড় একটি অংশ। এতে ক্ষতির শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার কৃষকরা।
জানা গেছে, গত রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা, নদীতীরবর্তী কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়কে পানি জমে গেছে। জোয়ারের প্রভাবে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অনেক স্থানে নদীর পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরো বেড়েছে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় আমন ধানের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৩১ হেক্টর এবং আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৪৬ হাজার ৭৭২ হেক্টর। ইতোমধ্যে ২ হাজার ২৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে, যার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।
জেলার পিংড়ি এলাকার কৃষক লিটন হোসেন, আলমগীর হাওলাদার ও শহীদুল ইসলাম জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বীজতলা সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে। পানি দ্রুত নেমে না গেলে এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। পাশাপাশি আমনের চারা রোপণে বিলম্ব হওয়ায় উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে জেলায় বর্তমানে ৯ হাজার ৪৭৪ হেক্টর জমির আউশ ধান পরিপক্ক অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষতির খবর না মিললেও টানা বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আউশ ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ জানায়, বর্তমানে জেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে হলুদ, ১৯ হেক্টর জমিতে মরিচ এবং ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিলে এসব ফসলও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
ঝালকাঠি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৬ হেক্টর আমনের বীজতলা তৈরি হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বীজতলার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোনো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু আমনের বীজতলাই নয়, জেলার সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি খাদ্যশস্যের সরবরাহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



