দর্শনা দিয়ে ভারতে যাত্রী পারাপার বন্ধ ৩ দিন

২৭ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশী ও অন্যান্য বিদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি বা মানবিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান সুমন, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা)

Location :

Chuadanga
দর্শনার জয়নগর কাস্টমস চেকপোস্ট
দর্শনার জয়নগর কাস্টমস চেকপোস্ট |নয়া দিগন্ত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে টানা তিন দিন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা-গেদে স্থলবন্দরের কার্যক্রমে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশী ও অন্যান্য বিদেশী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি বা মানবিক কারণে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ৯টায় দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দর্শনা ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, গত রোববার ভারতের গেদে ইমিগ্রেশন অফিসের ইনচার্জ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে দর্শনা ইমিগ্রেশনকে অবহিত করেন। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এই তিন দিনে সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রীদের ওপর। ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশী ও অন্যান্য বিদেশী যাত্রীদের ভারতে প্রবেশ বন্ধ থাকবে, তবে ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। ক্যান্সার রোগীদের জরুরি কেমোথেরাপির জন্য ভারত যাওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে লাশ হস্তান্তর কার্যক্রম চলবে। এছাড়া আমদানি-রফতানির পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

নির্বাচন ঘিরে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত সরকার। অতীতেও পশ্চিমবঙ্গে ভোটের সময় একইভাবে সাময়িকভাবে যাত্রী পারাপার সীমিত করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসা, ভ্রমণ ও ব্যবসায়িক কাজে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা করা অনেক যাত্রী পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। তবে জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক বিষয় বিবেচনায় বিশেষ ছাড় রাখায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

নির্বাচনী নিরাপত্তার কারণে সীমান্তে এই তিন দিনের ‘নিয়ন্ত্রিত নীরবতা’ দুই দেশের যাত্রী চলাচলে সাময়িক প্রভাব ফেললেও, স্বাভাবিক কার্যক্রম দ্রুতই ফিরবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

দর্শনা ইমিগ্রেশন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো: তারিক জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং যাত্রীদের আগাম সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ভোট শেষে ৩০ এপ্রিল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।