সিলেট বিভাগে হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুই ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে দুই শিশুর মৃত্যু হয়।
শনিবার (২৩ মে) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এর মধ্যে চারজনের হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৪৭ শিশু হাম উপসর্গে মারা যান।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদফতর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব পরীক্ষায় সিলেট বিভাগে নতুন কারো হাম নিশ্চিত না হলেও এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৪৩ শিশু। এদিকে বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ২৯৫ জন শিশু।
২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ১৫৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জের ১৬ (দু’জন রুবেলা), মৌলভীবাজারের ১৬, সুনামগঞ্জের ৮৪ ও সিলেটের ৪২ জন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে মারা যাওয়া শিশুরা হলো- সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ছয় মাস বয়সী নিলয় রায়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী নাফি ইসলাম, সিলেটের শাহপরান থানার এক বছর তিন মাস বয়সী আরাবি আহমদ এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ১০ মাস বয়সী আবিদ।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৪৩ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৪, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৫ ও মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন শিশু ভর্তি হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে বিভাগে চিকিৎসাধীন ২৯৫ জন সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৮৯, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫৮, উইমেন্স মেডিক্যাল হাসপাতালে দুই, লায়ন্স শিশু হাসপাতালে সাত, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আট, আল হারামাইন হাসপাতালে দুই, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার, পার্কভিউ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক, দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছয়, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন শিশু ভর্তি রয়েছে।
এ ব্যাপারে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম জানান, যারা হাম উপসর্গে মারা গেছেন তারা আরো অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছিলেন। খুব শিগগিরই টিকা ক্যাম্পেইনের ফলাফল আসবে। হাম পরিস্থিতির উন্নতি হবে।



