ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া থেকে ১২৮ জন ও সাচিলাপুরের আশপাশ থেকে ৬৮ জনসহ মোট ১৯৬ জনকে ৭১’র ৩০ মে সুগন্ধা নদীর পাড়ে (বর্তমান পৌর খেয়াঘাট) হত্যা করা হয়।
গণহত্যার শিকার ১৯৬ জনের মধ্যে ১৯৫ জনই ছিল হিন্দু। একজন ছিলেন মুসলিম- আনসার আলী খান। তবে ১৯৬ জনের বাইরে শুধু ১৯৭ তম ব্যক্তি হিসেবে বেঁচে এসেছেন বরিশালের অমল কংশবণিক। তিনি এই গণহত্যার জীবন্ত সাক্ষী।
সুগন্ধা নদীর পাড়ে গণহত্যার জীবন্ত সাক্ষী বরিশালের অমল কংশবণিক বলেন, ‘আমাদের ১৯৭ জনকে ঝালকাঠি থানায় এক রাত রাখা হয়। ভোর থেকে চার-চারজন করে দীর্ঘ সারিতে সুগন্ধা নদীর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। চারজন করে গুলি করে মারা হয়। শেষের দিকে এক পুলিশের দয়া হয় ১০ বছরের আমাকে দেখে। রশি খুলে দিয়ে তিনি আমাকে পালাতে বলেন। আমি নদী সাঁতরে কোনোমতে ওই পাড়ে উঠলে মাঝিরা আমাকে বাঁচায়।’
ঘটনার দিনটি যে ৩০ মে এটি জানান ঝালকাঠির স্থানীয় চাঁদ মোহন কংশবণিক। তার আপন বড় ভাই সতীশ চন্দ্র কংশবণিক, ভাইয়ের দুই ছেলে সুধীর চন্দ্র কংশবণিক ও সুনীল চন্দ্র কংশবণিকসহ ওই বংশের আরো অনেককে হত্যা করা হয়। যার মধ্যে আছেন— অনিল কংশবণিক, সুবল চন্দ্র কংশবণিক ও রাখাল চন্দ্র কংশবণিক।
এছাড়া মনোরঞ্জন সাহা, গোপাল সাহা, রামপ্রসাদ চক্রবর্তী, নিরুপদী চক্রবর্তী, গৌরঙ্গ দাস (ধোপা), পরান সাহা, যামিনী সাহা, গুপিনাথ সাহা ও মদন সাহাসহ অনেককে হত্যা করা হয় সেদিন।
পোস্টমাস্টার শাহজাহান হাওলাদারের স্ত্রী জমিলা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামীকে গুলি করে মারার দু’ দিন আগে ১৯ মে (শুক্রবার) একটি ছেলেসন্তান হয়েছিল। ২১ মে (রোববার) আমার স্বামীকে মারার পাঁচ দিন পর ২৬ মে (শুক্রবার) সাত দিনের ছেলেটাও মারা যায়। ওর আব্বা ছেলেটার নাম রেখেছিল এনায়েত। আড়াই বছরের আরেক ছেলেকে নিয়ে ৫৪ বছর আগে বিধবার জীবনে পা রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
নামমাত্র কবরের চিহ্নের সামনে দাঁড়িয়ে যুদ্ধকালীন স্বামীর প্রশিক্ষণ নোটের কাগজ হাতে জমিলা বেগম বলেন, ‘১৯৭২ সালে শেখ মুজিবের পাঠানো দুই হাজার টাকার একটি চেক পেয়েছিলাম। এর বাইরে এখন পর্যন্ত স্বামীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি বা কবরটাও বাঁধিয়ে দেয়নি কোনো সরকার।’



