রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে তানজিদ ইসলাম তামিম নামে ৭ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে রংপুরে এটিই প্রথম মৃত্যু।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ডা: আনম তানভীর চৌধুরী এ তথ্য জানান।
মৃত তামিম লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকাল পার্সন ডা: তানভীর জানান, মৃত শিশুর নাম তানজিদ ইসলাম তামিম। তার বয়স সাত মাস। ঈদের দুই দিন পর শরীরে র্যাশ ও জ্বর থাকায় তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কিছু দিন পর আবারো তাকে ওই হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বুধবার বিকেলে শিশুটিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাকে নিবিড় চিকিৎসা দেয়া হয়। হাম উপস্বর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ার চিকিৎসা চলছিল তার। শুক্রবার দুপুরে হামের উপসর্গ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও হার্ট ফেলের কারণে তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন বিভাগ কর্নারে ৩০ মার্চ থেকে ৭৪ জন হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৫৩ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আরো ২০ জন হামের উপস্বর্গ নিয়ে ভর্তি আছে।’
মৃত শিশুর বাবা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘তামিম আমার প্রথম ও একমাত্র সন্তান ছিল। ঈদের দু’দিন পর প্রথমে জ্বর নিয়ে লালমনিরহাট হাসপাতালে ভর্তি করাই। এরপর পাতলা পায়খানাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। শরীরে র্যাশ বের হয়। পরবর্তীতে লালমনিরহাট হাসপাতালে নিউমোনিয়া ধরা পড়লে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।’
রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে আবুল কালাম আজাদ নামে হাসপাতালের একজন মাস্টাররোল কর্মচারী আমার ছেলের মুখ থেকে অক্সিজেনের মাক্স খুলে নেয়। অনেক অনুনয় বিনয় করার পরেও তিনি তা আর লাগাননি। পরে নজেল দিয়ে অক্সিজেন দেয়া হয়। পরবর্তীতে পরিচালক স্বাক্ষরিত পরিচয়পত্রে দেখা যায় তিনি হাসপাতালের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। পরিচ্ছন্নতাকর্মী যদি আইসোলেশন ওয়ার্ডের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে নার্সের কাজ করেন তাহলে চিকিৎসা সেবা কোথায়।’
বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত হওয়ার সাথে সাথেই আমরা ওই কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে আমরা সজাগ আছি। হামের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ সতর্ক আছি।’
এ দিকে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহিঃবিভাগ ও ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৪ জন। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে ৬২৭ জন। এরমধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫৮০ জন। ভর্তি আছে ৪৭ জন।
অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এখন পর্যন্ত হাম সনাক্ত হয়েছে ১৩ জনের। যার মধ্যে নীলফামারীতে পাঁচজন, দিনাজপুরে তিনজন, ঠাকুরগাও ও রংপুরে দু’জন করে এবং কুড়িগ্রামে একজন।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গওসুল আজিম চৌধুরী বলেন, ‘এ বিভাগে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো আছে। নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০ এপ্রিল থেকে হাম-রোবেলার টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে।



