এখনো দৃশ্যমান হয়নি পদ্মায় ডুবে যাওয়া বাস, ২ যাত্রীর লাশ উদ্ধার

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো: মনির হোসেন জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল।

নয়া দিগন্ত অনলাইন
পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে
পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে |সংগৃহীত

সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে দুর্ঘটনা ঘটার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান হয়নি পদ্মায় ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী বাস।

এর আগে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ী জেলার এসপি মোহাম্মদ মঞ্জুর মোরশেদ জানান, ‘বাসটার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। বাসের ওপরের অংশ ৫০ ফুট পানির নিচে আছে এখন। আর নিচের অংশ আরো ১০ ফুট নিচে।’

তিনি আরো জানান, ‘বাসের এক পাশে রশি লাগানো হয়েছে। আরেক পাশে রশি লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপর বাসটিকে টেনে তোলা হবে। এখন এখানে প্রতিকূল আবহাওয়া, তাই উদ্ধার কাজে সমস্যা হচ্ছে।’

মঞ্জুর মোরশেদ এ-ও জানান, বাসটি ডুবে যাওয়ার সময় ৬-৭ জন সাঁতরে পার হয়ে গিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে- তারা বেঁচে গেছেন। তবে সে সময় আরো চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারদের হাসপাতালে নেয়া হলে দুইজন হাসপাতালেই মারা গেছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন আছেন। এদের তিনজনই নারী।

আরেকজন উদ্ধার ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

এদিকে, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো: মনির হোসেন জানান, ডুবে যাওয়া বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল।

বিকেলে কী ঘটেছিলো জানতে চাইলে তিনি জানান, বাসটি কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলো। বাসটি তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিলো। কিন্তু বিকেলের দিকে ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে জোরে পন্টুনে আঘাত করে। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, আজ রাত পৌনে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, ফরিদপুর ও আরিচা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দু'টো ডুবুরি ইউনিট উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং ঢাকার সিদ্দিকবাজার থেকে আরো দুটি ডুবুরি ইউনিট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের দিকে যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি