উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জে পয়েন্টে বাড়ছে। পানি বাড়ায় চৌহালী উপজেলার চর বিনানই ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙন এলাকায় ঘরবাড়ি সরানোর কাজ চলছে। এছাড়া জিওব্যাগ ও জিও টিউব ডাম্পিং অব্যাহত আছে। চরসলিমাবাদ গ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে কয়েকদিন ধরে ভাঙন চলমান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান নাজির জানান, অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে ধসে পড়েছে। ভাঙনের তীব্রতায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আরো বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ভাঙনের কারণে বিনানই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মনজুর কাদের মহাবিদ্যালয়, সম্ভুদিয়া আজিজিয়া আলিম মাদরাসা, বাঘুটিয়া কারিগরি কলেজ ও সম্ভুদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া শতাধিক বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যমুনার ভাঙন রোধে বিভিন্ন সময়ে জিওব্যাগ ডাম্পিংসহ অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছরই নদীপাড়ের মানুষকে বসতভিটা হারাতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদীভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী ও টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘চৌহালীর সলিমাবাদে তিন কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের প্রকল্পটি প্লানিং কমিশনে রয়েছে। অনুমোদন হলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া বর্তমানে ভাঙ্গন কবলিত স্থানগুলোতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।’



